শরীয়তপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর ঝটিকা কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কয়েকদিন আগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এবার প্রকাশ্যে মিছিল করেছে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এ ঘটনায় জেলার রাজনৈতিক অঙ্গণে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) বিকেলে শরীয়তপুর সদর উপজেলার কানারবাজার-বুড়িরহাট সড়কে ছাত্রলীগের ব্যানারে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ব্যানার হাতে শতাধিক নেতা-কর্মী সড়ক ধরে মিছিল করছেন। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন শরীয়তপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান।
বিজ্ঞাপন
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, মিছিলের সামনে একজন নেতা জাতীয় পতাকা বহন করছেন এবং অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। এ সময় শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপুর নাম উল্লেখ করে স্লোগান দেওয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতা-কর্মী নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেছেন। এতে বিষয়টি দ্রুত আলোচনায় চলে আসে।
এর আগে গত সোমবার ভোরে জেলা শহরের প্রধান সড়কে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীরা ঝটিকা মিছিল করেন। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া সম্প্রতি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে শরীয়তপুরের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কর্মসূচি পালনের খবর পাওয়া যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জেলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের অধিকাংশ নেতা-কর্মী আত্মগোপনে চলে যান। সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর প্রকাশ্যে কোনো বড় কর্মসূচি না থাকলেও বিভিন্ন সময় ঝটিকা মিছিল, স্বল্প সময়ের সড়ক অবরোধ এবং দলীয় দিবসকেন্দ্রিক কর্মসূচির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিটি ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তবে মাঝেমধ্যে সংগঠনগুলোর এমন প্রকাশ্য উপস্থিতি নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের মিছিলের বিষয়ে আমাদের কাছে এখনও আনুষ্ঠানিক তথ্য আসেনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/টিবি




