সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ঢাকা

কোরবানির গরু হাটে রাজস্ব আদায় ৪০ লাখ, সরকারি কোষাগারে জমা মাত্র ১৫ লাখ

জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০১ জুন ২০২৬, ০৯:২১ পিএম

শেয়ার করুন:

কোরবানির গরু হাটে রাজস্ব আদায় ৪০ লাখ, সরকারি কোষাগারে জমা মাত্র ১৫ লাখ
ঈদে নৈহাটী হাটের ছবি।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার নৈহাটী গরুর হাটে ব্যাপক কেনাবেচা হয়েছে। এতে খাস কালেকশনে থাকা ওই হাটে ৪০ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। তবে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে মাত্র ১৫ লাখ টাকা।

নিয়মানুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) তদারকিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীদের দিয়ে ওই হাট থেকে রাজস্ব আদায়ের কথা থাকলেও এবার ঈদের হাটে খাস আদায় করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা।


বিজ্ঞাপন


হাট শেষে হিসাবে আদায় হলো ৪০ লাখ টাকা। সরকারি কোষাগার পেল কেবল ১৫ লাখ টাকা। এ হিসাব খোদ খাস আদায় করা নেতার। তবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলছেন ভিন্ন কথা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বারহাট্টা উপজেলায় প্রতি সোমবার বসে নৈহাটি গরুর হাট। হাট সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, গুরুতর অনিয়ম হয়েছে এবার। খাস আদায়ের কাজ প্রশাসনের হলেও ইউএনও ও এসিল্যান্ডের সহযোগিতায় এ কাজে ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিক আহমেদ কমল, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি রহমত আলী, সহ-সভাপতি মানিক আজাদ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুল্লাহ সোহেল।

খাস আদায়ের পুরো টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে পকেটে পুরেছেন এই নেতারা, অভিযোগ হাট সংশ্লিষ্টদের। অভিযোগকারীরা নিরাপত্তার শঙ্কায় নাম প্রকাশে রাজি হননি।

তারা জানান, ঈদুল আজহা ঘিরে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও পাশের জেলা থেকেও কয়েক লাখ গরু ও অন্যান্য পশু আনা হয়েছে নৈহাটি গরুর হাটে। জমেছে বেচাকেনাও। হাটের প্রবেশ ফি, ইজারা, খাস আদায় এবং বিভিন্ন খাত থেকে সংগ্রহ হয়েছে ৪০ লাখ টাকা। তবে সরকারি হিসাবপত্রে মাত্র ১৫ লাখ টাকা জমা দেখানো হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


ঈদুল আজহা উপলক্ষে নৈহাটী বাজার থেকে গরু কিনেছেন স্থানীয় আবুল কালাম আজাদ নামে এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, এবার হাটে তিনগুণ হাসিল আদায় করা হয়েছে। অন্যান্য সময় ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই দুইশত করে চারশত টাকা হাসিল দিতে হতো। ঈদের বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার থেকে ৬০০ করে ১ হাজার ২০০ টাকা আদায় করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস’ ওসির বক্তব্য ভাইরাল

হাটের দায়িত্বে থাকা উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি রহমত আলী বলেন, ঈদের আগে শেষ হাটে টাকা কালেকশনে ব্যাপক খরচ। ৫৫ জন ভলান্টিয়ার হাটে কাজ করে। সেদিন মোট ৪০ লাখ টাকা খাস আদায় করা হয়েছে। সরকারি কোষাগারে ১৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকা হাট পরিচালনা ব্যয়ের জন্য রাখা হয়েছে। কোনো টাকা আত্মসাৎ হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মানিক আজাদ এসবের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নাকচ করেছেন। তিনি বলেন, আমি নির্বাচনমুখী মানুষ। হাটে কত টাকা উত্তোলন হয়েছে বা তা দিয়ে কী করা হয়েছে, আমি জানি না।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিক আহমেদ কমলের মোবাইলফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পাওয়া যায়নি যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আরিফুল্লাহ সোহেলকেও।

নৈহাটী বাজার কমিটির সদস্য সচিব বারহাট্টা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)  এসিল্যান্ড মো. সাজেদুল ইসলাম। তিনি জানান, ঈদের আগে সোমবার ১৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে ওই হাট থেকে। এর মধ্যে ৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে পাশের একটি মাদরাসায়।

এর বাইরে কোনো টাকা তোলার বিষয়ে আমার জানা নেই বলে দাবি করেন তিনি। প্রশাসনের বদলে বিএনপি নেতারা কেন খাস আদায়ে নেমেছিলেন, এমন প্রশ্নে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, হাটের জন্য লোকবল কম ছিল। তাই বিএনপি নেতাকর্মীদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল। এর বেশি কিছু তিনি বলতে রাজি হননি।

বিষয়টি অবহিত করলে ইউএনও সেলিনা রহমান বলেন, হাটের রাজস্ব আদায় ও সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিষয়ে ওঠা অভিযোগ যাচাই করা হচ্ছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা আর্থিক গরমিলের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর