নেত্রকোনার বক্তব্যের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে নানা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) এ সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
বিজ্ঞাপন
ওই রেকর্ডে থানার পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে আবুল হাসেমকে বলতে শোনা গেছে, ‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস। আমরা কেউ কাউকে ঠকাব না। সবাই মিলে মিশে থাকব। ধরেন দুই হাজার টাকা আমি খরচ করলাম, এই টাকা তো আমার বাড়ির টাকা না, বেতনের টাকাও না। আপনারা একটা অভিযোগ দিলেন এক হাজার টাকা, আরেকটা খারিজ কইরা ফেললেন এক হাজার টাকা, ওইটা দিয়েই কিন্তু আমি পাড়ি দিয়া দিলাম। তাইলে আমার তো রিস্ক নাই, নো টেনশন, খুব রিলাক্সে আছি’।
ওই রেকর্ডে ওসি আরও বলেন, ‘পুলিশের যে চাকরিটা, এটা ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস। সবাই কিন্তু এই বিজনেসের সঙ্গে জড়িত না। আমরা কিন্তু একজন আরেকজনরে সেইফে রাখছি। সবাই সমন্বয় করে চলতে হবে। ওসির মাথায় কিন্তু কাঁঠাল ভেঙে খাইতে পারবেন না। সর্বোপরি আমি আপনাদের ঠকাব না, আমি কি বাড়ি থেকে টাকা এনে খরচ করতাছি, না জমি বেইচ্যা আইন্যা আপনাদের চালাইতেছি। সবাই যেন ভালো থাকতে পারি। যার যেই অধিকার সে যেন সেটা পায়। আমার যারা কনস্টেবল আছে তারা যেন যেটা পাওয়ার সেটা পায়, তারা যেন বঞ্চিত না হয়। হক মারা আমি পছন্দ করি না। কারণ যারা হক মারে রাসূল তারে সাফায়েত করবে না। এটাই কিন্তু ফাইনাল কথা। কেউ চালাকি করবেন না। বর্তমান মিডিয়া অনেক এগিয়ে আছে’।
ওসি আরও বলেন, বর্তমানে গুপ্ত গুপ্ত একটা শব্দ আছে, এই শব্দটা আবিষ্কার করছে তারেক জিয়া (প্রধানমন্ত্রী)। আপনারা যে গুপ্ত গুপ্ত থাকার চেষ্টা করেন এইটা কিন্তু আমরা বুঝতেছি। এইযে সেইদিন মামলাটা হইলো নাহ, এখান থেকে টাকা পয়সা নিয়েছেন। অনেকে আমার কাছে আসছিল টাকা পয়সা নেওয়ার বিষয়ে জানতে। আমি কিন্তু কিছুই জানি না। তারপরও তাদের নানা কিছু বুঝাইয়া দৌড়াইয়া দিছি। আমরা যারা সিস্টেমের মধ্যে আছি, তারা যেন মিলে ঝুলে চলি। বেশি চালাকির দরকার নাই। যেকোনো কাজে আমরা নিজেদের কাউরে বিপদেও ফেলব না, কাউরে ঠকাবও না। আরেকটা বিষয় আছে কিছু কিছু ঘটনায় জায়গাতেই চার্জশিট, জায়গাতেই ফাইনাল, ওসি কিছুই জানল না। আরে ভাই আপনি তো নিজেই থানা একটা খুইল্যা ফেললেন। থানায় তো একজন ওসি আছে, তার সঙ্গে সমন্বয় করবেন। নাইলে নয়টা কইরা ফেললেন দশটার সময় ধরা খাবেন। তখন বুইজেন খবর আছে।
তবে কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসেম দাবি করেন, এটি তার বক্তব্য নয়। কীভাবে এই বক্তব্য এসেছে এটি তিনি জানেন না।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে জেলার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, 'বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। এ নিয়ে যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। ঘটনাটি যদি সত্যি হয়ে থাকে, তবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে, গত ৫ মে চোরাই পথে আনা ভারতীয় প্রসাধনী ছাড়াতে ঘুষের দর-কষাকষির কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে কলমাকান্দা থানার উপপরিদর্শককে (এসআই) আবু হানিফকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। পরদিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেনকে বদলি করা হয়।
প্রতিনিধি/এসএস




