দুই মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লিখেছিলেন, বড় একটা এক্সিডেন্ট হোক, ছিন্নবিচ্ছিন্ন হোক দেহ, স্বপ্নগুলো মরে যাক, মুছে যাক সব অপূর্ণতা। সেই পোস্ট ঘিরে এখন চলছে নানা আলোচনা। কারণ, পোস্ট দেওয়ার দুই মাসের মাথায় সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের প্রবাসী যুবক রাজ মাহাদি শুভ।
তিনি কমলনগর উপজেলার চর মার্টিন ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মুহাম্মদ দুলাল।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২৯ মে) সৌদি আরবে থাকা মাহাদির সহকর্মী আরাফাত হোসেন রায়হান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সহকর্মীদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার ভোরে মোটরসাইকেল নিয়ে ফুড ডেলিভারির কাজে বের হন রাজ মাহাদি শুভ। প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে বাসায় ফেরার কথা থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। সহকর্মীরা একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে রাতের দিকে সৌদি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রিয়াদ শহরের তোমামা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন তিনি।
বর্তমানে তার মরদেহ সৌদি আরবের কিং সৌদি হাসপাতালে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জীবিকার তাগিদে দ্বিতীয় দফায় প্রায় ছয় মাস আগে সৌদি আরবে যান মাহাদি। সেখানে তিনি ফুড ডেলিভারির কাজ করতেন। তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলে পরিবার জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রাজ মাহাদি শুভ চর মার্টিন ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেন সংগঠনটির বিভিন্ন নেতাকর্মী ও পরিচিতজনরা।
তবে মৃত্যুর পর আলোচনায় এসেছে তার ২৫ মার্চের একটি ফেসবুক পোস্ট। পোস্টটিতে জীবনের হতাশা ও অপূর্ণতার ইঙ্গিতপূর্ণ কিছু বাক্য লিখেছিলেন তিনি। সেই পোস্ট এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
রাজ মাহাদি শুভর পরিবারে স্ত্রী ও পাঁচ বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।
প্রতিনিধি/এসএস




