শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ঢাকা

ব্যতিক্রমী মাংসের বাজার: ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই নিম্নআয়ের

জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ২৮ মে ২০২৬, ১১:৫২ পিএম

শেয়ার করুন:

ব্যতিক্রমী মাংসের বাজার: ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই নিম্নআয়ের

ঈদুল আজহার দিনে যখন ঘরে ঘরে কোরবানির আনন্দ, ঠিক তখনই ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে বসে এক ব্যতিক্রমী মাংসের বাজার। এই বাজারের বিশেষত্ব হলো, এখানে যারা মাংস বিক্রি করেন এবং যারা কিনতে আসেন, উভয়ই মূলত কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য থেকে বঞ্চিত নিম্নআয়ের মানুষ। শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে সংগ্রহ করা কোরবানির মাংসই বিক্রি হয় এই অস্থায়ী বাজারে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সরেজমিনে শহরের প্রধান সড়কের পৌর মার্কেট এলাকা, ফকিরাপুল, টি এ রোড, জেলা পরিষদ মার্কেট সংলগ্ন রেলক্রসিং, স্টেশন ও কাউতলী এলাকায় ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের দিন এসব এলাকায় জমে ওঠে এই ব্যতিক্রমী বাজার।


বিজ্ঞাপন


দুপুরের পর থেকেই দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে পাওয়া মাংস নিয়ে  আসেন। কেউ গরু কাটা বা শ্রমের পারিশ্রমিক হিসেবে পাওয়া মাংস বিক্রি করেন, আবার কেউ বাড়ি বাড়ি ঘুরে সংগ্রহ করা মাংস এনে এসব জায়গায় বিক্রি করেন।

অন্যদিকে, যারা আর্থিক সংকটের কারণে কোরবানি দিতে পারেননি কিংবা বাজারমূল্যে মাংস কিনতে অক্ষম, তারাও ভিড় করেন এই বাজারে।

জেলা পরিষদ মার্কেট এলাকার অনেকেই জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ঈদের দিন শহরের রেলক্রসিং এলাকায় এমন বাজার বসে। অনেকের কাছে এটি এখন ঈদের দিনের পরিচিত দৃশ্য। যদিও বাজারটির কোনো আনুষ্ঠানিক কাঠামো নেই, তবুও দরিদ্র মানুষের জন্য এটি যেন এক অঘোষিত সহায়তার জায়গা হয়ে উঠেছে।

শহরের পুনিয়াউট এলাকার ইদ্রিস মিয়া বলেন, আমরা গরিব মানুষ, কোরবানি দিতে পারি না। পরিবারের পাঁচজন মিলে ঈদের দিন বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে মাংস সংগ্রহ করি। এবার প্রায় ১০ কেজি মাংস পেয়েছি। এর মধ্যে ৫ কেজি নিজেদের জন্য রেখেছি, বাকি ৫ কেজি বিক্রি করেছি।


বিজ্ঞাপন


বিরাসার এলাকার বাসিন্দা সাদ্দাম মিয়া বলেন, পাঁচজন মিলে একটি বাসায় গরু জবাইয়ের কাজ করেছি। টাকার পাশাপাশি কিছু মাংসও দিয়েছে। সংসারের প্রয়োজনেই মাংসগুলো এখানে এনে বিক্রি করেছি।

শহরের ফুলবাড়িয়া এলাকার চান বানু বলেন, ঈদের দিন শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়িতে গেলে মাংস পাওয়া যায়। সব মাংস নিজে খেয়ে শেষ করা সম্ভব না। তাই কিছু রেখে বাকিটা বিক্রি করার জন্য নিয়ে এসেছি।

তবে শুধু বিক্রেতাদের মধ্যেই নয়, ক্রেতাদের মাঝেও ছিল স্বস্তির ছাপ। অনেকেই জানান, অর্থাভাবে কোরবানি দিতে না পারায় তারা এই বাজার থেকেই কম দামে মাংস কিনেছেন। কেউ কেউ ৫০০ টাকা কেজি দরে মাংস কিনে পরিবারের জন্য ঈদের আয়োজন করেছেন।

স্থানীয়দের দাবি, হোটেল ও রেস্টুরেন্ট মালিকদের অনেকেও এই বাজার থেকে তুলনামূলক কম দামে মাংস কিনে নিয়ে গেছেন, যা অন্য সময়ে দ্বিগুণ দামে কিনতে হতো।

এই ব্যতিক্রমী বাজার একদিকে যেমন দরিদ্র মানুষের অর্থসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর ঈদের আনন্দেও কিছুটা স্বস্তি এনে দিচ্ছে।

প্রতিনিধি/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর