বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ঢাকা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোরবানির মাংস কাটতে গিয়ে আহত দুই শতাধিক

জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ২৮ মে ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম

শেয়ার করুন:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোরবানির মাংস কাটতে গিয়ে আহত দুই শতাধিক

পবিত্র ঈদুল আজহার দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটতে গিয়ে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ। আহতদের বেশিরভাগই ধারালো ছুরির আঘাতে হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছেন। এছাড়া গরু ও মহিষের লাথি কিংবা চাপায় আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বেশ কয়েকটি।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের রেজিস্টার সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।


বিজ্ঞাপন


51c828b5-92ba-4c99-9543-9e1f32f5a82e

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কোরবানির মাংস কাটার সময় অসাবধানতাবশত ছুরি, দা ও অন্যান্য ধারালো বস্তুর আঘাতে অধিকাংশ মানুষ আহত হয়েছেন। অনেকের হাত ও পায়ে একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়া গরু-মহিষ জবাইয়ের সময় প্রাণীর লাথি কিংবা চাপায় হাত-পা ভাঙাসহ বিভিন্ন ধরনের আঘাত পেয়েছেন অনেকে। তবে চিকিৎসকদের মতে, আহতদের কারও অবস্থা গুরুতর নয়।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন তাজুল (৫৮), জাবেদ (১৮), হানিফ (২২), নওশাদ (২৫), মাশেক (২৫), সোহাগ (৪০), জিতনি (১৮), খায়ের (৩৫), আলভী (১২), বিশাল (২০), জাহাঙ্গীর (৪২), হাসিম (২৫), ইফতি (২০), লিটন (৩০), মেহেদী (২১), কামরুল (২৫), ইব্রাহিম (২৫), শরিফ (২২), মিতুল (২৭), রবিন (২০), নাহিদ (২৬), ইসমাইল (২৬), মুস্তাকিম (১৮), রামিম (১৮), রোহান (২৩), নীরব (১৮), হেলাল মিয়া (৩১), সানি (৩৫), উবায়দুল (২৫), সায়ন (২৫) ও বাছির (২২)সহ আরও অনেকে।

ab0bce4c-2314-4771-9a28-e605069a6c2e


বিজ্ঞাপন


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় অভিজ্ঞতার অভাব ও অসাবধানতার কারণেই এসব দুর্ঘটনা বেশি ঘটেছে। বিশেষ করে মৌসুমি কসাই ও পরিবারের সদস্যরা পশু জবাই এবং মাংস কাটতে গিয়ে বেশি আহত হয়েছেন।

শহরের কাজীপাড়ার বাসিন্দা আহত সোহাগ মিয়া বলেন, মাংস কাটার সময় পায়ের নিচে রেখে কাটতে গিয়ে হঠাৎ পায়ে কোপ লাগে। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তার পায়ে তিনটি সেলাই দিতে হয়েছে।

আরও পড়ুন

দুই গৃহবধূ ও এক যুবকের আত্মহত্যা, তিন পরিবারের ঈদে বিষাদের ছায়া

শহরের ভাদুঘর এলাকার হানিফ মিয়া জানান, সকালে কোরবানির পর গরুর মাংস কাটার সময় অসাবধানতাবশত হাতে ছুরি লেগে যায়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে তিনি হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেন।

অন্যদিকে নবীনগরের বাইশমৌজা এলাকার মো. খায়ের বলেন, মহিষ জবাইয়ের সময় প্রাণীটির বাঁধন ছিঁড়ে গেলে সেটি তার ওপর পড়ে যায়। এতে তার হাত, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।

e1545270-ccc8-4b34-8ae9-10e4e1f25dbd

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সকালের রোস্টারের চিকিৎসক শুভ্র রায় ও ডা. দীপংকর ঘোষ জানান, সকাল থেকেই জরুরি বিভাগে আহত রোগীদের চাপ ছিল। কোরবানির মাংস কাটতে গিয়ে এবং পশু জবাইয়ের সময় অসাবধানতার কারণে তারা আহত হয়েছেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের বিকালের রোস্টারের চিকিৎসক ডা. অনিক দেব বলেন, দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অর্ধশতাধিক রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের বেশিরভাগের হাতের বিভিন্ন অংশ কাটা ছিল। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী জানান, কোরবানির দিন জরুরি বিভাগে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন। জরুরি প্রয়োজনে সার্জারি বিভাগের কনসালটেন্ট ও সার্জনদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। অপারেশন থিয়েটারও প্রস্তুত রয়েছে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর