কোরবানির ঈদের আগমুহূর্তে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৃথক তিন ঘটনায় দুই গৃহবধূ ও এক যুবকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। পারিবারিক কলহ, অভিমান ও মানসিক সমস্যাকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্বজনরা। এতে তিনটি পরিবারে ঈদের আনন্দ রূপ নিয়েছে বিষাদে।
বুধবার (২৭ মে) রাতে সদর উপজেলায় ও দুপুরে নবীনগর উপজেলায় এবং মঙ্গলবার (২৬ মে) রাতে বিজয়নগর উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, সদর উপজেলার নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের নসিংসার গ্রামের হোসেন মিয়ার মেয়ে সালমা বেগম বুধবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। প্রায় সাত বছর আগে জেলা শহরের মেড্ডা পীরবাড়ি আরামবাগ এলাকার রফিক মিয়ার ছেলে ইমরানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই ছেলে সন্তান রয়েছে।
স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। বুধবার রাত আটটার দিকে স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে সালমা কীটনাশক ট্যাবলেট খেয়ে ফেলে। পরে স্বামী তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১০টার দিকে মারা যান সালমা। অভিযোগ রয়েছে, মৃত্যুর পর স্বামী ইমরান হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান।
নিহতের বোন ইয়াসমিন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে তাদের সংসারে অশান্তি চলছিল। আমার বোনকে নির্যাতন করা হতো। মৃত্যুর পর তার স্বামী লাশ রেখে পালিয়ে গেছে।’
একই দিনে কেরির ট্যাবলেট খেয়ে মারা যান নবীনগর উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের খাগাতুয়া গ্রামের গৃহবধূ তাসলিমা আক্তার (২৫)। তিনি আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের খারকুরা গ্রামের বসির মিয়ার মেয়ে এবং সৌদি আরব প্রবাসী নবী মিয়ার স্ত্রী।
বিজ্ঞাপন
পরিবার সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে বুধবার দুপুরে স্বামীর বাড়িতে তাসলিমা কেরির ট্যাবলেট খেয়ে ফেলেন। পরে পরিবারের সদস্যরা দুপুর ২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি শহীদুল ইসলাম জানান, নিহত দুই নারীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাগুলো তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপরদিকে, বিজয়নগর উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের বুল্লা গ্রামের আলাই মিয়ার ছেলে জসিম উদ্দিন (৩২) গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি বিবাহিত এবং তিন সন্তানের জনক ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, জসিম দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে নিজ ঘরের তীরের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। স্থানীয়রা দরজা ভেঙে উদ্ধার করে বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
বিজয়নগর থানার ওসি মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ জানান, পারিবারিক কলহের জেরে ওই ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।
প্রতিনিধি/এমআর




