টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত নওগাঁর একই গ্রামের ৬ জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে জেলার মান্দা উপজেলার রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে জানাজা নামাজ শেষে তাদের পাশাপাশি কবরস্থ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
গতকাল সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের মাঝে মরদেহ গুলো হস্তান্তর করে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ। মরদেহগুলো মঙ্গলবার (২৬ মে) ভোরে মান্দার রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে এসে পৌঁছায়। নওগাঁর নিহত ১০ জনের মধ্যে বাকি ৪ জনের নিজ নিজ বাড়িতে আজ ভোরে জানাজা শেষে দাফন করা হয়।

মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মরদেহগুলো দাফনের জন্য আশপাশের গ্রাম থেকে আনা হচ্ছে খাঁটিয়া। শরিয়া নিয়ম অনুযায়ী সারি সারি রাখা ৬টি খাটিয়াতে রাখা হয়েছে মরদেহগুলোকে। মরদেহগুলো একনজর দেখতে ভিড় করছেন আশপাশের কয়েক গ্রামের প্রতিবেশীসহ নিহতদের স্বজনরা। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে পুরো রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের পরিবেশ।
জানাজায় রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশিদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাজাহান, নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারি টিপু, নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আখতার জাহান সাথী, মান্দা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলমসহ আশেপাশের গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
বিজ্ঞাপন
রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশিদ বলেন, নিহত পরিবারগুলোকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে প্রতি পরিবারের মাঝে ২৫ হাজার টাকা এবং শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়ে। এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। এ ঘটনায় আমরা সবাই শোকাহত। এক গ্রাম থেকে ৬ জন মানুষের এক সঙ্গে চলে যাওয়া আমাদেরকে মর্মাহত করেছে। পরিবারগুলোকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

প্রসঙ্গত, সোমবার (২৫ মে) ভোর ৪টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাতিতে রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত হয়। মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের ১০ জনের বাড়ি নওগাঁয়। এর মধ্যে নওগাঁর মান্দা উপজেলার রাজেন্দ্রটি গ্রামে ৭ জনের, পাকুড়িয়া গ্রামের দুইজন এবং নিয়ামতপুর উপজেলার একজন। নিহতরা সবাই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদ করার উদ্দেশে বাড়ি ফিরছিলেন।
নওগাঁর নিহতরা হলেন, মান্দা উপজেলার সাকিম মিয়ার ছেলে মো. সাগর মিয়া (২০), একই এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৫), আব্দুর রশিদের ছেলে মো. বারিক (২১), একই উপজেলার আব্দুর রহিমের ছেলে বাদশা (৩২), উপজেলার পাকুরিয়া গ্রামের রশিদের ছেলে গিয়াস (২০) ও তার ভাই মাইনুল (২৮), রাজেন্দ্রবাটি এলাকার একাব্বর আলীর ছেলে ইয়াকুব (২০), একই এলাকার সুলতানের ছেলে তারেক (২০), জাফরের ছেলে মাইনুল (৩৫), নিয়ামতপুর উপজেলার রামগা এলাকার সুজন (৩৫)।
প্রতিনিধি/এসএস




