নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকি ও চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামি যুবদল নেতা মেহেদী হাসান ওরফে সাহসসহ (৩০) তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।
বিজ্ঞাপন
আজ বুধবার (২০ মে) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেফতার মেহেদী হাসান দুর্গাপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং পৌরসভার পশ্চিম মোক্তারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মঞ্জুরুল হকের ছেলে। অন্য দুইজন হলেন বাগিচাপাড়া এলাকার হাসু মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়া (৩০) ও সাধুপাড়া এলাকার মো. মেহেদী (২৮)।
এলাকার বাসিন্দা, মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে থানায় হত্যাসহ একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার নাজিরপুর মোড়ে ‘ভাই ভাই অ্যান্ড জনতা হোটেলে’ তার সহযোগীদের নিয়ে বাকিতে খাবার খেতেন। গত ৪ এপ্রিল রাতে খাবার খেতে এসে হোটেলের মালিকও কর্মচারীদের সঙ্গে তিনি উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তারা চলে যান। এরপর ভয় ভীতি দেখিয়ে বাকিতে খাবার খেতে থাকেন। গত ৩০ এপ্রিল দিবাগত রাত ১টার দিকে তার প্রায় ১৫ জন সহযোগী নিয়ে ওই হোটেলে গিয়ে খাবার খান। পরে হোটেল কর্তৃপক্ষ বকেয়া মিলিয়ে প্রায় এক লাখ টাকা বিল চান। এতে মেহেদী হাসান ক্ষিপ্ত হয়ে হোটেলের মালিক ও কর্মচারীদের মারধরসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে উল্টো দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ নিয়ে মামলা বা পুলিশকে জানানোর নিষেধ করা হয়। ভয়ে হোটেল মালিক তিনদিন প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখে। পরে থানার উপপরিদর্শক (এস আই) নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে মেহেদী হাসানকে প্রধান আসামি করে তার আটজন সহযোগীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো আটজনের নামে মামলা করেন। গতকাল রাতে পুলিশ মেহেদী হাসানসহ তিনজন আসামিকে গ্রেফতার করে।
হোটেল মালিক খোকন মিয়া বলেন, মেহেদী হাসান বিভিন্ন সময় তার সহযোগীদের নিয়ে আমার হোটেলে খেয়ে ১ লাখ টাকা বকেয়া করেন। টাকা চাইতে গেলেই তিনি উচ্ছৃঙ্খল আচরণ, প্রাণনাশসহ নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দেন। ওই দিন গভীর রাতে খাবার খাওয়ার পর আমার ম্যানেজার টাকা চাইলে তিনি উল্টো দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ব্যবসা করতে হলে তাকে চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করতে হবে বলে জানান। তাই খুন জখমের ভয়ে তিনদিন হোটেল বন্ধ রাখা হয়। তাঁর ভয়ে এলাকার মানুষ সব সময় আতঙ্ক ও অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে। পরে এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে।'
এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. শহীদুল্লাহ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার গভীর রাতে ঢাকার উত্তরা দিয়াবাড়ী এলাকা থেকে মেহেদী হাসান সাহসসহ তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
প্রতিনিধি/এসএস




