বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ঢাকা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাসপাতালের লিফটে অহরহ আটকা পড়েন রোগী ও স্বজনরা! 

জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ১৭ মে ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম

শেয়ার করুন:

H
ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাসপাতালে লিফটে আটকা পড়েছেন রোগী। ছবি- প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের লিফটে প্রতিদিনই অহরহ আটকা পড়ছেন রোগী ও স্বজনরা। এতে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রোগীদের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

গত শনিবার (১৬ মে) রাতে হাসপাতালের একটি লিফটে হুইলচেয়ারে থাকা বৃদ্ধা রোগী হোসনে আরাসহ পাঁচ থেকে ছয়জন রোগী ও স্বজনরা আটকা পড়েন। পরে লিফটম্যান ও উপস্থিত লোকজনের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, হোসনে আরা হাসপাতালের চতুর্থ তলার মেডিসিন বিভাগে ভর্তি ছিলেন। রাতে তাকে সিটি স্ক্যান করানোর জন্য নিচে নেওয়ার সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে লিফট মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। পরে স্বজন ও অন্যরা অনেক কষ্টে তাকে লিফট থেকে বের করেন।

10

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে দুটি লিফট রয়েছে। এর মধ্যে একটি দিনে এবং অন্যটি রাতে চালু রাখা হয়। রাতে চালু থাকা লিফট দিয়েই মূলত দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত রোগী আনা-নেওয়া করা হয়। তবে লোডশেডিং হলেই লিফট বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রায়ই রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।


বিজ্ঞাপন


সংশ্লিষ্টরা জানান, হাসপাতালের লিফটে আধুনিক কোনো নিরাপত্তা প্রযুক্তি নেই। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় লিফটগুলো চালানো হলেও তদারকির অভাব রয়েছে। অনেক সময় লিফট অচল থাকায় গুরুতর রোগীদের দ্রুত ওয়ার্ডে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। ফলে চিকিৎসা দিতেও দেরি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ব্যবহৃত লিফটে ইউপিএস বা ব্যাটারি ব্যাকআপ ব্যবস্থা থাকা জরুরি। বিদ্যুৎ চলে গেলে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে লিফট ধীরে ধীরে নিকটবর্তী ফ্লোরে গিয়ে দরজা খুলে দেয়, যাতে যাত্রীরা নিরাপদে বের হতে পারেন। 

এছাড়া আধুনিক লিফটে এআরডি নামে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে। বিদ্যুৎ  চলে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাটারিচালিত সিস্টেম সক্রিয় হয়ে লিফটকে নিকটবর্তী তলায় নিয়ে দরজা খুলে দেয়। বড় হাসপাতাল বা বাণিজ্যিক ভবনে জেনারেটর ব্যাকআপ থাকাও বাধ্যতামূলক, যাতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলেও লিফট সচল থাকে। 

কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের লিফটে এসব আধুনিক নিরাপত্তা সুবিধার কোনোটিই নেই। এছাড়া জরুরি যোগাযোগের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যালার্ম বা ইন্টারকম ব্যবস্থাও কার্যকর নয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

30

হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, লিফটগুলো প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ে। তখন ঢাকা থেকে প্রকৌশলী এনে মেরামত করাতে হয়। এর আগে হাসপাতালের বহির্বিভাগের একটি লিফট দীর্ঘদিন অচল থাকলেও দ্রুত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এদিকে হাসপাতালের চারজন লিফটকর্মী নিয়মিত দায়িত্ব পালন করলেও তারা ন্যায্য বেতন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তা সঠিকভাবে পরিশোধ করা হচ্ছে না।

হাসপাতালের লিফটের ঠিকাদার সেলিম মিয়া জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের লিফটে এখনো জেনারেটরের কোনো ব্যবস্থা নেই। এটি শহরের সবচেয়ে পুরনো লিফট হওয়ায় প্রায়ই নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে লিফট মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে রোগী ও তাদের স্বজনরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রতন কুমার ঢালী বলেন, সন্ধ্যার পর ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণে লিফট কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই এ সমস্যা হচ্ছে। 

তিনি আরও জানান, হাসপাতালের জন্য দুটি নতুন লিফট স্থাপনের আবেদন জানিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, খুব শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে।

এদিকে রোগী ও স্বজনরাও দ্রুত হাসপাতালের লিফট ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, নিরাপত্তা সরঞ্জাম সংযোজন এবং সার্বক্ষণিক তদারকির দাবি জানিয়েছেন।

এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর