রোববার, ১৭ মে, ২০২৬, ঢাকা

ভিডিও ভাইরাল

একাধিকবার বদলি, তবুও থামেননি ভূমি কর্মকর্তা, নতুন কর্মস্থলেও ঘুস গ্রহণ

জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ১৭ মে ২০২৬, ০১:০৭ পিএম

শেয়ার করুন:

একাধিকবার বদলি, তবুও থামেননি ভূমি কর্মকর্তা, নতুন কর্মস্থলেও ঘুস গ্রহণ
অভিযুক্ত ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা কামাল হোসেন খান।

নেত্রকোনার বিভিন্ন উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে বারবার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কামাল হোসেন খানের বিরুদ্ধে।

অতিরিক্ত ভূমি কর আদায়, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি, ঘুষ গ্রহণ এবং মিথ্যা প্রস্তাব পাঠিয়ে কাগজ অনুযায়ী পাওনার চেয়ে বেশি জমি খারিজ করে দেওয়ার অভিযোগে একাধিকবার বদলি হলেও থামেননি তিনি। সর্বশেষ কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত অবস্থায়ও তার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে।


বিজ্ঞাপন


সম্প্রতি সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ করছেন— এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে সমালোচনার জন্ম দেয়। পরে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, ২০২১-২২ সালে বারহাট্টা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন কামাল হোসেন খান। ওই সময় টাকার বিনিময়ে অর্পিত সম্পত্তি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে খারিজে সহযোগিতা এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তাকে নেত্রকোনা সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বদলি করা হয়।

সেখানেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর ২০২৪ সালে তাকে মোহনগঞ্জ উপজেলার সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বদলি করা হয়। দায়িত্ব পালনকালে অতিরিক্ত খাজনা আদায়, ঘুষ গ্রহণ, হয়রানি এবং মিথ্যা প্রস্তাব পাঠিয়ে অতিরিক্ত জমি খারিজ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর গত বছরের অক্টোবরে তাকে কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বদলি করা হয়।

আরও পড়ুন

সাতক্ষীরায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ

কিন্তু বদলির পরও অনিয়ম বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি পোগলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহলের তদবিরে বারবার অভিযোগ উঠলেও চাকরিতে বহাল রয়েছেন কামাল হোসেন খান। স্থানীয়দের প্রশ্ন, “এত অভিযোগের পরও তিনি কীভাবে বারবার পার পেয়ে যাচ্ছেন?”

মোহনগঞ্জ উপজেলার সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নে কর্মরত থাকাকালে তার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জমি খারিজ করে দেওয়ার একটি ঘটনায় তদন্তে অনিয়মের সত্যতা মেলে। জানা যায়, উপজেলার সহিলদেও মৌজার ২০৮৬ নম্বর বিএস দাগে মোট ৭১ শতাংশ জমি রয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে ৩৫ শতাংশ জমির মালিক দত্তগাতী গ্রামের জয়নুল আবেদিন এবং বাকি সাড়ে ৩৫ শতাংশের মালিক নজরুল ইসলাম। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ৭-৮ বছর আগে নজরুল ইসলাম তার অংশের চেয়ে বেশি, অর্থাৎ ৪০ শতাংশ জমি খারিজ করে নেন। পরে ২০২৩ সালের এপ্রিলে জয়নুল আবেদিন আরও সাড়ে ৩৫ শতাংশ জমি খারিজ করেন। এতে মোট ৭১ শতাংশ জমির বিপরীতে খারিজ হয়ে যায় সাড়ে ৭৫ শতাংশ জমি। এরপরও গত বছরের ৩১ আগস্ট জয়নুল আবেদিনের নামে আরও সাড়ে ৩ শতাংশ জমি খারিজ করে দেওয়া হয়।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা কামাল হোসেন খান বলেন, এসব আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার। একটি বিল ৩০ হাজার টাকায় খাস কালেকশনে দেওয়া হয়েছে। ওইদিন খাস কালেকশন বাবদ ৫০০ টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আমার কাছে জমা দিয়েছেন। অসৎ উদ্দেশে কেউ সেটা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, ভিডিওটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে, তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর