নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চরমঙ্গলহাটা গ্রামে বৃদ্ধা রিজিয়া বেগম (৭০) হত্যা মামলার ২ বছরেও জট খোলেনি। এখন পর্যন্ত এই হত্যার সঙ্গে জড়িত কোনো আসামিও গ্রেফতার হয়নি।
প্রথমে মামলাটি লোহাগড়া থানা পুলিশের তদন্তাধীন থাকলেও পরবর্তীতে মামলার তদন্ত ভার পায় সিআইডি। তবে এখনও হত্যার রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি সিআইডি। আদৌ হত্যার বিচার হবে কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (১১ মে) বিকেলে উপজেলার রাম নারায়ণ পাবলিক লাইব্রেরি সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় নিহতের ছেলে ও হত্যা মামলার বাদী রবিউল ইসলামসহ উপস্থিত এলাকাবাসী এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এদিন, মতবিনিময় সভায় মামলার বাদী রবিউল ইসলামের চাচা সিদ্দিকুর রহমান, স্থানীয় ব্যবসায়ী ফরিদ আহমেদ, মো. খায়রুজ্জামান ডাবলু, খিজির আহমেদ, টিএম শফিকুল ইসলাম সবুজ, প্রদীপ চৌধুরীসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
নিহতের স্বজন সূত্রে জানা গেছে, নড়াইলের চর মঙ্গলহাটায় পাঁচ সন্তানের জননী রিজিয়া বেগম নিজ বাড়িতে প্রায় সময় একা থাকতেন। ২০২৪ সালের ১১ মে (শনিবার) তার ছেলে রবিউল ইসলাম রাত ১০টার দিকে বাড়ি গিয়ে দেখতে পান বিছানার পাশের জানালার সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগানো রয়েছে তার মা রিজিয়া বেগম। বাড়িতে অন্য কোনো সদস্য না থাকার সুযোগে রিজিয়া বেগমের গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এরপর স্বর্ণালংকারসহ অন্যান্য জিনিসপত্র লুটে নেয় তারা। এ ঘটনার পরদিন রোববার (১২ মে) সকালে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে লোহাগড়া থানা পুলিশ নড়াইল জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠালে সেখানে তার ময়নাতদন্তে শেষ হয়। পর দিন সোমবার (১৩ মে) নিহতের ছেলে রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে থানা পুলিশের তদন্তে ৬ মাসের বেশি সময় পর হলেও মামলার রহস্য উদঘাটন হয় না। পরে একই বছরে পিবিআই বা সিআইডির অধীনে মামলার তদন্ত চান বাদী। বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটির তদন্তভার সিআইডি নড়াইলকে দেওয়া হয়।
মামলার বাদী ও নিহত রিজিয়া বেগমের ছেলে রবিউল ইসলাম বলেন, মামলার ২ বছর পার হলেও আমার মায়ের হত্যাকারী শনাক্ত এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার বা ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করতে পারেনি প্রশাসন। চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল আমার বাড়িতে আবারও চুরি হয়। অজ্ঞাত চোরেরা ৪টি সিসি ক্যামেরা ও বিদ্যুতের তারসহ অন্যান্য মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় লোহাগড়া থানায় অভিযোগ দিলেও চোর শনাক্ত বা মালামাল উদ্ধার হয়নি।
বিজ্ঞাপন
হত্যার ঘটনায় নড়াইল জেলা সিআইডির উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, রিজিয়া হত্যা মামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও হত্যার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।
সম্প্রতি বাড়িতে চুরির ঘটনার বিষয়ে জানতে লোহাগড়া থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার বা অভিযুক্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
প্রতিনিধি/টিবি




