রোববার, ১০ মে, ২০২৬, ঢাকা

পরকীয়ার জেরে যুবক হত্যা, এক মাস পর রান্নাঘরের মেঝে খুঁড়ে লাশ উদ্ধার

জেলা প্রতিনিধি, যশোর
প্রকাশিত: ১০ মে ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম

শেয়ার করুন:

পরকীয়ার জেরে যুবক হত্যা, এক মাস পর রান্নাঘরের মেঝে খুঁড়ে লাশ উদ্ধার
রান্নাঘরের মেঝে খুঁড়ে যুবকের লাশ উদ্ধার

যশোরের শার্শা উপজেলায় পরকীয়ার জেরে ইকরামুল (২৪) নামে এক যুবককে হত্যার এক মাস পর তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যার পর লাশ রান্নাঘরের মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (৯ মে) বিকেলে উপজেলার বসতপুর গ্রামে প্রধান আসামি ফরহাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে রান্নাঘরের মেঝে ভেঙে মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।


বিজ্ঞাপন


শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতাররা হলেন— প্রধান আসামি ফরহাদ, তার স্ত্রী মুন্নি আক্তার, কাকলি আক্তার ও শ্বশুর ফজলুর মোড়ল।

এলাকাবাসী জানান, ফরহাদের স্ত্রী মুন্নি আক্তারের সঙ্গে নিহত ইকরামুলের দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুন্নি ও তার স্বামী ফরহাদের মধ্যে প্রায়ই দাম্পত্য কলহ লেগে থাকত। ধারণা করা হচ্ছে, সেই বিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, হত্যার পর অভিযুক্তরা নিজেদের বাড়ির রান্নাঘরের মেঝের নিচে গোপনে লাশ পুঁতে রাখেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা অভিযুক্ত বাড়ির আশপাশ ঘিরে রাখে। ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে মাটি খনন করে সেখান থেকে ইকরামুলের লাশ উদ্ধার করা হয়।


বিজ্ঞাপন


শার্শা থানার ওসি মারুফ হোসেন জানান, বসতপুর গ্রামের ফরহাদের স্ত্রী মুন্নির সঙ্গে প্রতিবেশী ইকরামুলের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। ওই সম্পর্ককে পুঁজি করে ইকরামুলের কাছ থেকে ১০ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে আরও টাকার জন্য চাপ দিতে থাকেন ফরহাদ। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ইকরামুলকে বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়।

ওসি আরও জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী ইকরামুলকে রান্নাঘরে বসিয়ে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। পরে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর রান্নাঘরের মাটি খুঁড়ে লাশ পুঁতে তার ওপর কংক্রিট ঢেলে মেঝে তৈরি করা হয়। এ হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমে ফরহাদের স্ত্রী মুন্নি আক্তার, কাকলি আক্তার ও শ্বশুর ফজলুর মোড়ল সহযোগিতা করেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর