মানিকগঞ্জে কৃষ্ণ রাজবংশী নামের এক মাছ ব্যবসায়ীকে ৪০ হাজার টাকার জন্য পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে বাজারের কমিটির সদস্যরা বলছেন কৃষ্ণ রাজবংশী গলায় গামছা পেছিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সরেজমিনে গিয়ে নিহতের পরিবার ও বাজার কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বললে, এমন অভিযোগ করেন তারা।
বিজ্ঞাপন
নিহত কৃষ্ণ রাজবংশী মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বান্দুটিয়া মাঝিপাড়া এলাকার ক্ষুদিরাম রাজবংশীর ছেলে। কৃষ্ণ রাজবংশী বান্দুটিয়া বাজারের ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ী।
স্থানীয়রা জানান, গত ৪ থেকে ৫ দিন আগে তরা বাজারের মাছের আড়ৎ থেকে ৩ কার্টন চিংড়ি মাছ চুরি হয়। সেই মাছ চুরির সন্দেহে বুধবার (৬ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ৪টার দিকে কৃষ্ণ রাজবংশীকে ধরে বাজারের লোকজন মারধর করে বাজার সমিতির ঘরে আটকে রেখে পরিবারের কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন।
এ বিষয়ে নিহতের স্ত্রী যমুনা রানী রাজবংশী জানান, গত বুধবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে আমার স্বামী বাজারে মাছ বিক্রির জন্য তরা বাজারে মাছ কিনতে যান। এরপরে সকালে জানতে পারি আমার স্বামীকে তরা বাজারে আটকে রাখা হয়েছে। শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমি বাজারে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি আমার স্বামীকে মেরে হাত-পা ভেঙে ফেলেছে। আমার স্বামীর উঠে দাঁড়াবার শক্তি নাই। তার এ অবস্থা দেখে আমি কাঁদতে কাঁদতে বাজার কামিটির সদস্যদের বলি আমার স্বামীকে ছেড়ে দেন। তখন তারা বলে, তোমার স্বামী মাছ চুরি করেছে। সে কারণে তাকে আটকে রাখা হয়েছে। চুরি হওয়া মাছের দাম ৪০ হাজার টাকা দিলে তোমার স্বামীকে ছেড়ে দেওয়া হবে। এরপরে বাজারের লোকজনের হাতে-পায়ে ধরে বললাম আমার কাছে এত টাকা নেই। আমি আপনাদের ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে টাকা জোগার করে দিয়ে দিব। তবুও আপনারা আমার স্বামীকে ছেড়ে দেন। তারা আমার কথা না শুনে বলেন, ৪০ হাজার টাকা না দিলে ছাড়া হবে না। পরে তড়িঘরি করে আমি বাড়িতে চলে আসি টাকা জোগারের জন্য। বাড়ি এসে আমার প্রতিবেশি ও আত্মীয়-স্বজনের কাছে টাকা ধারের জন্য চেষ্টা করি। এমন সময় আনুমানিক বিকেল ৫টার দিকে শুনতে পাই আমার স্বামী মারা গেছে।
তিনি আরো বলেন, আমার স্বামী আত্মহত্যা করেনি তাকে ৪০ হাজার টাকার জন্য পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমার সংসারের একমাত্র উপার্জন করতেন আমার স্বামী। এখন আমি আমার ছেলেমেয়েকে নিয়ে কী করব বুঝতে পারছি না।
বিজ্ঞাপন
নিহতের ছোট ভাই বিষ্ণু রাজবংশী বলেন, আমার ভাইকে তরা বাজারের কমিটির লোকজন ধরে মারধর করে হাত-পা ভেঙে ফেলেছিল। আমার ভাই এত উপরের ফ্যানের সঙ্গে গামছা পেছিয়ে আত্মহত্যা করার শক্তি ছিল না। বাজারের লোকজন তাকে মেরে আত্মহত্যা বলে চালাতে চাচ্ছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত করে আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
তরা বিল্টু স্মৃতি হাট, বাজারের উপদেষ্টা হারুনুর রশিদ বলেন, আমি বেলা ১১টার দিকে বাজারে এসে দেখতে পাই সমিতির ঘরের নিচতলায় মাছ চুরির অভিযোগে কৃষ্ণ রাজবংশীকে হাত বেঁধে আটকে রাখা হয়েছে। পরে তার পরিবারের লোকজনকে খবর দিয়ে এনে তাকে ছেড়ে দিতে বলে, সমিতির ঘরের দ্বিতীয় তলায় মিটিংয়ে চলে যাই। বিকেলে শুনতে পাই কৃষ্ণ রাজবংশী নাকি আত্মহত্যা করেছেন। পরে কৃষ্ণ রাজবংশীর মৃতদেহ পুলিশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে জানার জন্য বাজারের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে সভাপতির ফোনে একাধিকবার কল করলেও, ওপাশ থেকে ফোন ধরা হয়নি।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরম আলী বলেন, গতকাল বুধবার সন্ধ্যার দিকে তরা বণিক সমিতির অফিসের নিচতলা থেকে কৃষ্ণ রাজবংশীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। আসামিদের ধরতে চিরুনি তল্লাশি চালানো হবে।
প্রতিনিধি/এফএ




