মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ঢাকা

হালদায় নমুনা ডিম থেকে মিলল ১৫১ কেজি রেণু

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৫ মে ২০২৬, ১২:২৯ পিএম

শেয়ার করুন:

হালদায় নমুনা ডিম থেকে মিলল ১৫১ কেজি রেণু
হালদায় নমুনা ডিম থেকে মিলল ১৫১ কেজি রেণু

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীর মা মাছের ডিম থেকে মিলল ১৫১ কেজি রেণু। যা বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছে সংগ্রহকারীরা। এবার প্রাথমিকভাবে প্রতি কেজি রেণুর বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ২০ হাজার টাকা হিসেবে।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম। তিনি বলেন, হালদা নদীতে মা মাছ প্রথম নমুনা ডিম ছাড়ে গত বৃহস্পতিবার। একই দিন বিকেলে দ্বিতীয় দফা ডিম ছাড়ে। পরে দিবাগত রাতে পুনরায় ডিম ছাড়ে।


বিজ্ঞাপন


নমুনা ডিমসহ তিন দফায় এবার প্রথম জোতে মা মাছ ৬ হাজার কেজি ডিম ছেড়েছে। আড়াইশ নৌকায় পাঁচ শতাধিক ডিম সংগ্রহকারী নদী থেকে ডিম সংগ্রহ করে। আহরিত ডিম থেকে রেণু ফোটাতে মাছুয়াঘোনা হ্যাচারিতে ৪৬টি কুয়া, শাহ মাদারিতে ৪৫টি এবং মদুনাঘাটে ১৮টি কুয়ার পাশাপাশি গড়দুয়ারা ও বারিয়াঘোনায় ৩০টি মাটির কুয়া প্রস্তুত ছিল।

এছাড়া শাহ মাদারিতে ২৫ গ্রুপ, মাছুয়োঘোনাতে ২৬ এবং মদুনাঘাটে ২০টি গ্রুপ এবং মাটির কুয়াসহ পাঁচশতাধিক ডিম সংগ্রহকারী হালদা নদী থেকে আহরিত ডিম থেকে রেণু ফোটান। প্রথম জোতে ডিম কম পাওয়ায় ডিম সংগ্রহকারীদের রেণু ফোটাতে তেমন বেগ পেতে হয়নি। এখন রেণু বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছেন ডিম সংগ্রহকারীরা। সেই সঙ্গে দ্বিতীয় জোর দিকে তাকিয়ে আছেন হালদা পাড়ের ডিম সংগ্রহকারীরা।

ডিম সংগ্রহকারীরা জানান, রেণু ফোটানোর খবর পেয়ে গতকাল সোমবার দুপুরের পর থেকে বিভিন্ন হ্যাচারিতে রেণু সংগ্রহ করতে আসছেন কাছের ও দূরের মৎস্য খামারীরা। সন্ধ্যা পর্যন্ত হাটহাজারীর শাহ মাদারি হ্যাচারি থেকে প্রায় দুই কেজি রেণু বিক্রিও হয়েছে।

de0d89a4-eddd-480e-9b5f-773bb1fbe693


বিজ্ঞাপন


একই দিনে মদুনাঘাট হ্যাচারিতেও আধা কেজি রেণু বিক্রি হয়েছে। হাটহাজারীতে মোট তিনটি হ্যাচারি রয়েছে, যার একটি মাছুয়াঘোনা এলাকায়। এছাড়া রাউজান উপজেলায় রয়েছে আরও তিনটি হ্যাচারি। এসব হ্যাচারিতে হালদার মা মাছের ডিম থেকে রেণু উৎপাদন করা হয়।

শাহ মাদারি হ্যাচারির সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, সোমবার দুই কেজি রেণু বিক্রি হয়েছে। স্থানীয় পোনা ব্যবসায়ী ইকবাল এক কেজি রেণু সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া মিরসরাই ও হাটহাজারীর আরও দুই পোনা চাষি মিলিয়ে এক কেজি রেণু কিনেছেন।

বাইরের জেলা থেকেও কয়েকজন ক্রেতা ইতোমধ্যে যোগাযোগ করেছেন। মঙ্গলবার থেকে বিক্রি বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।

 

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ডিম সংগ্রহকারী গড়দুয়ারায় কামাল সওদাগর ও মধ্যম মাদার্শার আশু বড়ুয়া জানান, আজ মঙ্গলবার থেকে রেণু বিক্রি শুরু হবে। প্রতিবছর হালদার ডিমের রেণু প্রতি কেজি ৩ থেকে ৫ লাখ টাকায় বিক্রয় হলেও এবার প্রাথমিকভাবে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কেজি এক লাখ বিশ হাজার টাকা।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর