শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ঢাকা

হালদায় নমুনা ডিম ছেড়েছে মা মাছ, বড় আহরণের অপেক্ষায় জেলেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০১ মে ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম

শেয়ার করুন:

হালদায় নমুনা ডিম ছেড়েছে মা মাছ, বড় আহরণের অপেক্ষায় জেলেরা

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র চট্টগ্রামের হালদা নদীতে নমুনা ডিম ছেড়েছে কার্পজাতীয় মা মাছ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ও শুক্রবার সকাল থেকে নদীর পশ্চিম গুজরা, নাপিতের ঘাট ও নয়াহাটসহ বেশ কয়েকটি স্থানে এই নমুনা ডিম পাওয়া যায়। 

শুক্রবার (১ মে) দুপুরে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম।


বিজ্ঞাপন


জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, যেহেতু নমুনা ডিম পাওয়া গেছে, তাই আশা করা যাচ্ছে রাতের জোয়ারে মা মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়বে। এই মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য নদীর দুই পাড়ে প্রায় ৩৫০ জন ডিম সংগ্রহকারী বালতি, গামলা, ডিঙি নৌকাসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছেন। 

মৎস্য কর্মকর্তাদের মতে, এ বছর ডিমের পরিমাণ গতবারের চেয়ে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই জেলেরা বড় ধরনের আহরণের স্বপ্ন দেখছেন।

হালদা গবেষক ও বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মনজুরুল কিবরীয়া জানান, বৃহস্পতিবার রাতে মা মাছ যে স্বল্প পরিমাণ ডিম ছেড়েছে, তাকে ‘নমুনা ডিম’ বলা হয়। সাধারণত বজ্রবৃষ্টি এবং জোয়ার-ভাটার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে মা মাছ বেশি ডিম ছাড়ে। 

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আজকের রাতের মধ্যেই পুরোদমে ডিম ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। ইতোমধ্যে আজিমেরঘাট ও কুমার স্কুল এলাকাসহ নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে নমুনা ডিম পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন ডিম সংগ্রহকারী মো. ইলিয়াস, শফিউল আলম ও মো. হোসেনসহ আরও অনেকে। তারা জানান, অধিকাংশ সংগ্রহকারী যাবতীয় সরঞ্জাম নিয়ে ইতোমধ্যে নদীতে নেমে পড়েছেন।


বিজ্ঞাপন


ডিম থেকে রেণু উৎপাদনের জন্য হালদা নদীর হাটহাজারী অংশের মদুনাঘাট হ্যাচারি, শাহ মাদারি এবং মাছুয়াঘোনা হ্যাচারি পুরোদমে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মাছুয়াঘোনা হ্যাচারিতে ৪৬টি, শাহ মাদারিতে ৪৫টি এবং মদুনাঘাটে ১৮টি কুয়া প্রস্তুত আছে। পাশাপাশি গড়দুয়ারা ও বারিয়াঘোনা এলাকায় ৩০টি মাটির কুয়াও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব হ্যাচারিতে শাহ মাদারিতে ২৫টি, মাছুয়াঘোনাতে ২৬টি এবং মদুনাঘাটে ২০টি গ্রুপ ডিম থেকে রেণু উৎপাদনের কাজ তদারকি করবে।

হালদা উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন জানান, রেণু উৎপাদনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং সরকারি হ্যাচারিগুলো তদারকির জন্য জেলা থেকে মৎস্য কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এবার সময়মতো বজ্রসহ বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢল এবং উজানের পানি নেমে আসায় ডিম ছাড়ার জন্য নদীর পরিবেশ অত্যন্ত চমৎকার রয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, খাগড়াছড়ির পাহাড় থেকে নেমে আসা হালদা নদীর ফটিকছড়ি এলাকায় একটি রাবার ড্যাম থাকায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া তামাক চাষ, শিল্পকারখানা ও গৃহস্থালির বর্জ্যে দূষণ এবং নদী ব্যবস্থাপনায় উদ্যোগের অভাবের অভিযোগও দীর্ঘদিনের। এত সব প্রতিকূলতার মধ্যেও হালদার মা মাছগুলো টিকে আছে এবং প্রতিবছর তাদের প্রজনন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

Halda-nadi-d

প্রসঙ্গত, গত মৌসুমে ২৯ মে মা মাছ ডিম ছাড়লেও এবার এপ্রিল ও মে মাসের তৃতীয় জোয়ারেই মা মাছ ডিম ছেড়ে দিচ্ছে। গত বছর হালদা থেকে ১৪ হাজার ৬৬৪ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছিল, যা থেকে ২৯৮ কেজি রেণু উৎপন্ন হয়। এর আগের বছর ২০২৪ সালে রেণুর পরিমাণ ছিল মাত্র ৪৬ কেজি। উল্লেখ্য, হালদা নদী থেকে সংগৃহীত ডিম থেকে উৎপাদিত প্রতি কেজি রেণু বাজারে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত মূল্যে বিক্রি হয়।

 প্রতিনিধি/একেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর