সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ঢাকা

শিক্ষকের ধর্ষণে ১২ বছর বয়সী শিশু সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা, থানায় মামলা

জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০৪ মে ২০২৬, ০৭:৪১ এএম

শেয়ার করুন:

শিক্ষকের ধর্ষণে ১২ বছর বয়সী শিশু সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা, থানায় মামলা
আমান উল্লাহ সাগর

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় শিক্ষকের ধর্ষণে ১২ বছরের এক মাদরাসাছাত্রী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে।

এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ভুক্তভোগীর পরিবার ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মদন থানায় মামলা করেছে।


বিজ্ঞাপন


অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম আমান উল্লাহ সাগর। তিনি উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে। তিনি গ্রামের হযরত ফাতেমাতুজ জোহুরা মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক।

রোববার (৩ মে) মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর মদন উপজেলার পাঁচহার গ্রামে ২০২২ সালে হযরত ফাতেমাতুজ জোহুরা মহিলা কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। একই মাদরাসায় তার স্ত্রীও প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন। ভুক্তভোগী শিশুটি একই এলাকার বাসিন্দা এক বিধবা নারীর একমাত্র মেয়ে। জীবিকার তাগিদে শিশুটির মা সিলেটে গৃহ পরিচারিকার কাজ করেন। শিশুটি তার নানির কাছে থেকে ওই মাদরাসায় লেখাপড়া করতো।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ওই মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণনাশের ভয় দেখান। এপ্রিল মাসের ১৮ তারিখে ওই শিক্ষক ছুটি নেন। এরপর থেকে তিনি আর মাদরাসায় আসেননি বলে জানিয়েছেন ওই মাদরাসার আরেক শিক্ষক। এদিকে, ভুক্তভোগী শিশুটিও শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে গত পাঁচ মাস ধরে মাদরাসায় যায়নি। পরবর্তীতে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন ঘটলে তার মা সিলেট থেকে এসে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করে শিক্ষকের ধর্ষণের বিষয়টি জানতে পারেন। পরে স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হন।


বিজ্ঞাপন


অভিযোগে আরও জানানো হয়েছে, পরীক্ষা নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, অন্তঃসত্ত্বা শিশুটির গর্ভে থাকা শিশুর বয়স প্রায় ২৭ সপ্তাহের বেশি। শিশুটির সরু কোমরের তুলনায় গর্ভস্থ বাচ্চার মাথার মাপ অনেক বেশি। এটি বড় ধরনের শারীরিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এছাড়া বাচ্চাটির রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কম। এমন অবস্থায় স্বাভাবিক প্রসব যা মা ও বাচ্চা উভয়ের জন্যই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ১২ বছরের এই শিশুর শরীরে সিজারিয়ান সেকশনের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যানেস্থেসিয়া বা ওষুধের ডোজ নির্ধারণ করা চিকিৎসকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

এ বিষয়ে ওই মাদরাসার প্রতিষ্ঠাকালীন উদ্যোক্তা ও শিক্ষক মো. ছোটন বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবার এ বিষয়ে আমাকে কিছু জানায়নি। পাঁচ মাস আগে ওই মেয়ে কিছু না জানিয়েই চলে গেছে। আর অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগর ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর থেকে স্ত্রী সন্তানসহ পলাতক রয়েছেন। এমনকি আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন না।

এ বিষয়ে মদন থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, এই মামলার একমাত্র আসামি আমান উল্লাহ সাগর পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর