বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

রংপুরে গবাদি পশু উৎপাদনে বিপ্লব: দুই বছরে বেড়েছে সাড়ে ৫ লাখ পশু

রেজাউল করিম জীবন, রংপুর
প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০২ পিএম

শেয়ার করুন:

রংপুরে গবাদি পশু উৎপাদনে বিপ্লব: দুই বছরে বেড়েছে সাড়ে ৫ লাখ পশু

গবাদি পশু উৎপাদনে বিপ্লব ঘটেছে রংপুর বিভাগে। দুই বছর আগেও রংপুর বিভাগে কোরবানি যোগ্য গরু ও খাসি ছিল প্রায় ১৫ লাখ। দুই বছরের ব্যবধানে গবাদি পশু উৎপাদনে বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ২৩ হাজার ৬৭টি গবাদি পশুতে। এই দুই বছরে গবাদি পশুর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ঈদুল আজহায় রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় ১৪ লাখের কিছু বেশি কোরবানির প্রাণীর চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বিভাগের ১ লাখ ৯৭ হাজার ৪১৪ জন ছোট-বড় খামারি রয়েছে। ২০ লাখের বেশি গরু, মহিষ, ছাগল, উট, দুম্বা, ভেড়াসহ কোরবানির প্রাণী প্রস্তুত করেছেন খামারি ও গৃহস্থরা। যা বিভাগের ৮ জেলায় মোট চাহিদার চেয়ে সাড়ে ৫ লাখের বেশি গবাদি পশু। আসন্ন কোরবানির পশু বিক্রির উদ্দেশে প্রায় আড়াই লাখ খামারি সাড়ে ৮ লাখের মতো গরু বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছেন। এছাড়াও ২ লাখের ওপর গৃহস্থ প্রায় ১০ লাখ গরু-খাসি বাজারে বিক্রি করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন। এর মধ্যে ছাগল ও ভেড়া রয়েছে তিন লাখের বেশি। কোরবানিতে দেশি জাতের ও শংকর জাতের গরু চাহিদা বেশি থাকায়, কয়েক মাস আগে থেকে খামারিরা এ ধরনের গরু স্বাস্থ্য সম্মতভাবে মোটা তাজাকরণ শুরু করেছেন।


বিজ্ঞাপন


Rangpur-cow

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য মতে, রংপুর জেলায় সবচেয়ে বেশি খামারি রয়েছে। এই জেলায় ৩৩ হাজার খামারে প্রায় চার লাখ গরু রয়েছে। রংপুর জেলা এবারে কোরবানির প্রাণীর চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে সোয়া দুই লাখের কিছু বেশি, সেখানে প্রস্তুত করা হয়েছে ৩ লাখ ৬৩ হাজারের বেশি। এই জেলায় চাহিদার চেয়ে বর্তমানে উদ্বৃত্ত রয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি। একইভাবে বিভাগের অন্যান্য জেলায় চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকবে এবারে কোরবানির পশু।

আরও পড়ুন

কলাপাড়ায় বজ্রপাতে অর্ধশতাধিক গবাদিপশুর মৃত্যু

এদিকে কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ব্যাপারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পশুর দরদাম করছেন। তবে পশু খাদ্যের দাম বাড়ার কারণে এবারেও পশু পরিপর্যায় খরচও হয়েছে অনেক বেশি। সেই কারণে গত বছরের তুলনায় এবার পশুর দামও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করছেন খামারিরা।


বিজ্ঞাপন


খামারি মিঠু ইসলাম জানান, এবারে কোরবানির জন্য ৫টি গরুর প্রস্তুত করা হয়েছে। এই ৫টি গরুর দাম প্রায় ১৫ লাখ টাকা হবে। চাহিদা অনুযায়ী দামে বিক্রি করতে পারলে লাভ হবে। আর বাজার ভালো না হলে ক্ষতি হবে। কেননা এই ৫টি গরু প্রস্তুত করতে অনেক খরচ হয়েছে।

খামারি আসিফুল ইসলাম আসিফ জানান, বিগত সময়ের তুলনায় এবারে খামারিদের খামারে গবাদি পশু রয়েছে পর্যাপ্ত। তবে কয়েক বছর থেকে গো খাদ্যের দাম বাড়ায় গবাদি পশু লালন পালনে খুব বেশি লাভ হচ্ছে না। এবার কোরবানি ঈদেও গরুর দাম বেশি থাকবে। তারপরও আশানুরূপ লাভ করতে পারবে না খামারিরা।

Rangpur-

এছাড়াও কয়েক খামারি জানিয়েছেন, কোরবানি ঈদের জন্য তারা বিভিন্ন সাইজের দেশি ও শংকর জাতের গরু ছাগল প্রস্তুত করেছেন এবং ইতোমধ্যে আগাম বিক্রিও শুরু হয়েছে। অনেকেই খামারে এসে দাম ঠিক করে আগাম টাকা দিয়ে বুকিং করে যাচ্ছেন।

রংপুর জেলা ও বিভাগীয় ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার লতিফুর রহমান মিলন জানান, এবার ঈদে ভারত থেকে গরু না এলে দেশের খামারিরা লাভবান হবেন। ভালো দামের আশায় খামারিরা কোরবানির বাজার ধরার জন্য এখন থেকেই পশুর যত্ন নিচ্ছেন। খরচ অনুযায়ী গরুর দাম না পেলে খামারিরা আশাহত হবেন। তবে আশা করছি, খামারিরা এবার ঈদে দাম পাবেন। রংপুর অঞ্চলের খামারে পর্যাপ্ত গবাদি পশু রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত এসব পশু দেশের অন্যান্য স্থানে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের বিভাগীয় পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল হাই সরকার জানান, রংপুর অঞ্চলে এবারে ২০ লাখ ২৩ হাজার ৬৭টি গবাদি পশু রয়েছে। যা চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকবে সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি। এসব পশু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো যাবে। আশা করছি এই অঞ্চলের খামারিরা এবারে ভালো দাম পাবেন।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর