পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা বন্দরসহ গোটা উপকূলীয় এলাকায় দুই দিনের প্রবল বজ্রবৃষ্টিতে ৩০ এর অধিক কৃষকের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে গেছে। বিরামহীন বজ্রপাতে তাদের অর্ধশতাধিক গবাদিপশুর মৃত্যু হয়েছে। বজ্রপাতে একদিনে এত গবাদিপশুর মৃত্যু ইতোপূর্বে আর ঘটেনি বলে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিসহ প্রান্তিক জনপদের কৃষকরা জানিয়েছেন। এতে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
কারণ আর কয়দিন পরে বহু খামারি কোরবানি উপলক্ষ্যে গবাদিপশু বিক্রি করে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন। সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যানুসারে কৃষকসহ ২৯ খামারির গবাদিপশু মারা যাওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে আচমকা শুরু হওয়া কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে তীব্র বজ্রবৃষ্টিতে মানুষ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। বিকেল থেকে একের পর এক গবাদিপশু মারা যাওয়ার খবরে খামারি কৃষকরা দিশাহারা হয়ে পড়েন।
মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের আজিমদ্দিন গ্রামের প্রান্তিক কৃষক রুহুল আমিন খান জানান, দুপুরে মাঠে বেঁধে রাখা গাই গরুটা বজ্রপাতে মুহূর্তেই মারা যায়। প্রায় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান।
তারিকাটা গ্রামের দেলোয়ার হোসেন, দক্ষিণ বালিয়াতলী গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম হাওলাদার, বালিয়াতলী গ্রামের হাবিবুল্লাহ, রিফিউজিপাড়ার শাহিদা বেগম, মধুখালী গ্রামের আনেচ খান, এনায়েত তালুকদার, কমরপুর গ্রামের নূর হোসেন জানান, স্বাভাবিকভাবেই গরুগুলো মাঠে বেঁধে রাখা ছিল। আচমকা ঝড়বৃষ্টির সঙ্গে বিরামহীন বজ্রপাতে গরুগুলো মারা গেছে। এসব কৃষক এখন দিশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। লোকসানের ধকলে সবাই হতবাক বনে গেছেন। কৃষকের দেওয়া তথ্যমতে, অন্তত ৬০ লাখ টাকার গবাদিপশুর প্রাণহানি ঘটেছে।
বিজ্ঞাপন
কলাপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মারুফ বিল্লাহ জানান, গতকালকের (মঙ্গলবার) বজ্রপাতে খামারিসহ ২৩ জন কৃষকের তালিকা পেয়েছেন। তাতে মোট ২৯টি গরু মারা যাওয়ার খবর নিশ্চিত হয়েছেন। তবে আজকের (বুধবারের) বজ্রপাতে কোনো গরু মারা যাওয়ার খবর এখন পর্যন্ত মেলেনি।
তিনি আরো বলেন, আমাদের কাছে অনেক কৃষক তার গরু মারা যাওয়ার খবর জানায়নি। মৃত গরুর সংখ্যা আরো বেশি হবে বলে তিনি ধারণা করছেন।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার হামিদ জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকে সরকারিভাবে নগদ অর্থ, খাদ্য সহায়তা ও ঢেউটিন প্রদান করা হবে। গবাদিপশু মারা যাওয়া কৃষকের তালিকা সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এসএস




