বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

নেত্রকোনায় নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে, তলিয়ে গেছে ২২০০ হেক্টর জমির ধান

জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২১ পিএম

শেয়ার করুন:

নেত্রকোনায় নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে, তলিয়ে গেছে ২২০০ হেক্টর জমির ধান
খালিয়াজুরীর জগন্নাথপুর হাওরে পানিতে ধান কাটছেন কৃষকরা।

ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার কয়েকটি নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এপর্যন্ত ২২১৫ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। অনেক কৃষক তাদের একমাত্র ফসল হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার সবগুলো নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেল ৩টার তথ্য অনুযায়ী জেলার কলমাকান্দা উপজেলায় উপদাখালী নদীর পানি বিপদসীমার ০.৬০ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। খালিয়াজুরীতে কংস নদের পানি বিপদসীমার ০.৯৩ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া সোমেশ্বরী, ভোগাই, ধনু ও মগড়া নদীতে পানি বিপদসীমার কিছুটা নিচে রয়েছে।


বিজ্ঞাপন


জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শাখাওয়াত হোসেন জানান, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। আরও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন

নেত্রকোনায় তলিয়ে যাচ্ছে হাওরের ধান, দ্রুত কাটতে প্রশাসনের মাইকিং

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২ মেট্রিক টন ধান। এর মধ্যে হাওর অঞ্চলে ৪১ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯২ হাজার ৫৯০ মেট্রিক টন। হাওরাঞ্চলে আজ পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। আর পুরো জেলাজুড়ে কাটা হয়েছে ২১.২২ শতাংশ জমির ধান। তবে পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে এ পর্যন্ত ২২১৫ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, ২২১৫ হেক্টর জমির ধান ঝুঁকিতে রয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে এর পরিমাণ আরও বাড়বে। হাওরাঞ্চলে ৬৫ শতাংশ ধান ইতোমধ্যে কাটা শেষ হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


মোহনগঞ্জ উপজেলার ডিঙাপোতা হাওর পাড়ের কৃষক দোস মোহাম্মদ বলেন, ৮ একর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ করেছিলাম। দ্বিগুণ খরচে কিছু জমির ধান কেটে এনে বাড়িত স্তূপ করে রাখা হয়েছে। লাগাতার বৃষ্টিে সেগুলো পচে শেষ। বাকি জমির ধান খেতই তলিয়ে গেছে, কেটে আনার মতো আর উপায় নেই। এমন অবস্থা প্রায় অধিকাংশ কৃষকেরই। একটিমাত্র ফসলের আয়ের ওপরই সারা বছরের সংসার খরচ, ছেলে মেয়ের পড়াশোনা, আচার অনুষ্ঠানসহ সবকিছুই নির্ভর করে। এবার সব শেষ।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর