বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

পুরোনো কবরে লুকানো লাশ, ২৬ দিন পর বেরিয়ে এলো হত্যার রহস্য!

জেলা প্রতিনিধি, শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম

শেয়ার করুন:

পুরোনো কবরে লুকানো লাশ, ২৬ দিন পর বেরিয়ে এলো হত্যার রহস্য!

শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনায় নিখোঁজের ২৬ দিন পর পুরোনো কবর খুঁড়ে এক ফেরিওয়ালার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে চরচটাং গ্রামে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আদালতের নির্দেশে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়।

উদ্ধার হওয়া মরদেহটি ওই এলাকার মৃত সোনাই ব্যাপারীর ছেলে মন্টু ব্যাপারীর (৬৬) বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি পেশায় ফেরিওয়ালা ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য ফেরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।


বিজ্ঞাপন


পুলিশ জানায়, গত ২৭ মার্চ থেকে নিখোঁজ ছিলেন মন্টু ব্যাপারী। পরে ৯ এপ্রিল তার বোন মিনারা বেগম পালং মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে কোনো সন্ধান পায়নি। মোবাইল ফোন ট্রেস করেও তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

cfdf7ab5-52a6-4dfa-9483-87ac04b90950

তবে তদন্তের একপর্যায়ে সোমবার মন্টুর মামাবাড়িতে গিয়ে সন্দেহজনক কিছু আলামত পায় পুলিশ। বাড়ির একটি পরিত্যক্ত ঘরে বড় গর্ত এবং পাশের একটি পুরোনো কবরের কাছে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে দেখে সন্দেহ জাগে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় কবরের একাংশ খুঁড়ে অর্ধগলিত একটি মরদেহ দেখতে পায় পুলিশ।

পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে কবর খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান পলাশ, থানা পুলিশ ও সিআইডির একটি দল উপস্থিত ছিল।


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন

ঘরে মাটিচাপা পরে পুরাতন কবরে, ২৫ দিন পর মিলল মনু ব্যাপারীর মরদেহ

নড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডা. আশিক মাহমুদ বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনের নামের তালিকা করা হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। দ্রুত তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মন্টু ব্যাপারী তার মামাবাড়িতে একা থাকতেন। একাধিক বিয়ে করলেও তার সঙ্গে স্ত্রী বা সন্তানরা বসবাস করতেন না। অসুস্থতার কারণে ঈদের আগে তিনি ঢাকা থেকে গ্রামে ফিরে এসে একটি টিনশেড ঘরে থাকছিলেন।

fb269758-a938-4e5a-8d5f-a0c3321115db

এদিকে নিহতের মেয়ে মিম আক্তার অভিযোগ করে বলেন, যে বাড়ির পাশে বাবার মরদেহ পাওয়া গেছে, সেই বাড়ির ভ্যানচালক ফারুক মাদবর ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই পলাতক। তারাই আমার বাবাকে হত্যা করেছে।

তিনি আরও দাবি করেন, কবর থেকে উদ্ধার হওয়া লাশের কাপড়, কম্বল ও মোবাইল ফোন দেখে আমি আমার বাবাকে শনাক্ত করেছি।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর এভাবে কবরের ভেতর থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর