শরীয়তপুরের আংগারিয়ায় নিখোঁজের ২৫ দিন পর মনু ব্যাপারী (৬৫) নামের এক ভ্যানচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় হত্যার পর প্রথমে ঘরের ভেতরে মাটিচাপা এবং পরে পুরাতন কবরে লাশ সরিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের চর চটাং এলাকার মাদবর বাড়ির একটি পুরাতন কবর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৫ দিন আগে হঠাৎ করেই নিখোঁজ হন মনু ব্যাপারী। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। সর্বশেষ গত ১৩ এপ্রিল পালং মডেল থানায় নিখোঁজের একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বোন মিনারা বেগম।

ঘটনার মোড় ঘুরে যায় সোমবার সকালে। মিনারা বেগম বাড়ির পাশে তিন বছর আগে মারা যাওয়া তার মামাতো ভাই সাহেব আলি মাদবরের কবরে নতুন মাটি দেখতে পেয়ে সন্দেহ করেন। একই সঙ্গে ওই বাড়ির একটি পরিত্যক্ত ঘরের ভেতরে একটি রহস্যজনক গর্ত দেখতে পান স্থানীয়রা। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুরাতন কবরের ভেতর থেকে মনু ব্যাপারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পরপরই মনু ব্যাপারীর মামাতো ভাইয়ের ছেলে ফারুক মাদবর ও তার স্ত্রী পারভীন আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে জানা গেছে।
মনু ব্যাপারীর মেয়ে মিম আক্তার অভিযোগ করেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে তার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমার বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী ৭ লাখ টাকা নিয়ে তাকে ডিভোর্স দেয়। এ ঘটনায় বাবা মামলা করেছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। লাশ গুম করতে প্রথমে ঘরের ভেতরে মাটিচাপা দেওয়া হয়, পরে দুর্গন্ধ ছড়ানোর আশঙ্কায় পুরাতন কবরে সরিয়ে রাখা হয়।
মনুর বোন মিনারা বেগম বলেন, অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ভাইয়ের সন্ধান পাইনি। থানায় জিডি করেছি, তার স্ত্রীর সঙ্গে মামলা চলছিল, এর আগেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) ড. আশিক মাহমুদ বলেন, নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডির ভিত্তিতে তদন্ত করতে গিয়ে একটি পুরাতন কবর থেকে মরদেহের সন্ধান পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যা করে মাটির নিচে রাখা হয়েছিল। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলন করে সুরতহাল ও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
প্রতিনিধি/এসএস




