রোববার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

গাজীপুরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে শিক্ষার্থী অপহরণের বিষয়ে যা জানা গেল

জেলা প্রতিনিধি, গাজীপুর
প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫০ পিএম

শেয়ার করুন:

অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে শিক্ষার্থী অপহরণের অভিযোগ, ৭২ ঘণ্টা পর উদ্ধার

গাজীপুরের শ্রীপুরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে শিক্ষার্থী অপহরণের অভিযোগের ৭২ ঘণ্টা পর উদ্ধার হয়েছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

উদ্ধারের পর ভিডিও সাক্ষাৎকারে ভুক্তভোগী বলেন, অভিযুক্তরা ছুরি ধরে তাকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে উঠিয়ে নিয়ে যায়। ভয়ে তাদের সঙ্গে গেছি। এসময় তাদের হাতে ছুরি, পিস্তল ছিল। এরপর কোর্ট ম্যারেজে কিভাবে করছে আমি জানি না, তারা আমাকে জোর করে স্বাক্ষর নিছে। এরপর আবিদের নানু বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে আমাকে নিয়ে যায়।


বিজ্ঞাপন


এদিকে, অপহরণের শিকার ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী (১৬) অপহরণের ঘটনায় এখনও অধরা রয়েছে প্রধান অভিযুক্ত আবিদ। 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছে শ্রীপুর থানা পুলিশ।

পুলিশ বলছে, ঘটনাটি প্রেম ঘটিত। তবে আদালত থেকে ভিকটিমকে তার বাবার জিম্মায় দেওয়া হলে ভুক্তভোগী জানান, তাকে ভয় ভীতি দেখিয়ে উঠিয়ে নেওয়া হয়।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে উপজেলার এমসি বাজার এলাকা থেকে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়।


বিজ্ঞাপন


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী জানান, বিষয়টির জটিলতা কমানোর জন্য মেয়েটি নিজেই ফোন করে পুলিশের কাছে আত্নসমর্পণ করে। এটি প্রেমের বিষয়। এখানে ছেলেমেয়ে এক থাকলেও দুটি পরিবারের কারণে বিষয়টি জটিল হয়েছে। 

শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সঞ্জয় সাহা বলেন, শনিবার সকালে উপজেলার এমসি বাজার এলাকার অভিযান পরিচালনা করে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে। ভুক্তভোগীকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, আদালতে পাঠানোর পর আদালতের বিচারক ভুক্তভোগী কিশোরীকে তার বাবার জিম্মায় দেন। পরে ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, তাকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার আবিদ (২১) নামে এক যুবক দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। গত বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) সকালে মাদরাসায় যাওয়ার পথে মাওনা ফায়ার সার্ভিস এলাকা থেকে আবিদ ও তার সহযোগীরা তাকে প্রথমবার তুলে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হলেও ওই দিন বেলা ১১টার দিকে বিষয়টি নিয়ে গ্রামে সালিশ চলাকালে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।

অভিযোগ উঠেছে, সালিশ চলাকালেই আবিদ ও তার ১০-১৫ সহযোগী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ঘরের দরজা ভেঙে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ফেলে এবং সকলের সামনে থেকে ওই ছাত্রীকে পুনরায় তুলে নিয়ে যায়।

এই সময় বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। এই ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় আলেম-ওলামা এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করেন।

স্থানীয় সচেতন এলাকাবাসীর ভাষ্য, একজন নাবালিকার ক্ষেত্রে প্রেমের সম্পর্কে পালিয়ে যাওয়া বা উঠিয়ে অপহরণ করা অবশ্যই অপরাধ। এছাড়া দলবল নিয়ে দরজা ভেঙে মেয়েকে নিয়ে যাওয়া, কোর্ট ম্যারেজের মাধ্যমে বিয়ে এসবই দেশের প্রচলিত আইনে অপরাধ। এক্ষেত্রে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, একই এলাকার আবিদ (২১) নামের এক যুবক দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল এবং বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব ও অপহরণের হুমকি দিত। গত ১৪ এপ্রিল সকালে মাদরাসায় যাওয়ার পথে মাওনা ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকা থেকে সে ও তার সহযোগীরা প্রথমে ছাত্রীটিকে অপহরণ করে। তবে একই দিন বেলা ১১টার দিকে বিষয়টি নিয়ে সালিশ বৈঠক চলাকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, আবিদ ও তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে ভুক্তভোগীর বাড়িতে হামলা চালায়, দরজা ভেঙে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে এবং ওই ছাত্রীকে পুনরায় জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এ সময় মারধর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।

 

ভুক্তভোগীর বাবা হাদিউল ইসলাম বলেন, প্রথমে মেয়েকে উদ্ধার করা হলেও সালিশ চলাকালীন আবার অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যায়। আমি ঘটনার বিচার চাই।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির আহমেদ জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি প্রেম ঘটিত বলে মনে হয়েছে। তবে মেয়েটি যেহেতু অপ্রাপ্ত বয়স্ক এবং তার বাবা অভিযোগ করেছেন। তাই এ ব্যাপারে আমরা মামলা নিয়েছি, এতে  ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।  মূল আসামি আবিদকে ধরতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর