বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রেণু পোনা আহরণ, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

জেলা প্রতিনিধি, বরগুনা
প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৪ পিএম

শেয়ার করুন:

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রেণু পোনা আহরণ, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

উপকূলীয় জেলা বরগুনার পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবাধে চলছে রেণু পোনা আহরণ। এ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নিষিদ্ধ ‘ব্লু-নেট’ জাল, যার ফলে বিপুল পরিমাণ অন্যান্য মাছের পোনা ও জলজ প্রাণী ধ্বংস হচ্ছে। এতে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে নদীর জীববৈচিত্র্য।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপকূলের প্রায় ৫ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রেণু পোনা আহরণের সঙ্গে জড়িত। হ্যাচারি কার্যক্রম সীমিত থাকায় চিংড়ির চাহিদা পূরণের অজুহাতে একটি অসাধু চক্র এই অবৈধ কার্যক্রমকে উৎসাহিত করছে। অধিক মুনাফার লোভে পাইকারি ব্যবসায়ীরা শিকারীদের নিষিদ্ধ ব্লু-নেট জাল ব্যবহারে প্ররোচিত করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।


বিজ্ঞাপন


বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রচলিত ‘বাকশাল’ পদ্ধতিতে রেণু পোনা আহরণ তুলনামূলক কম ক্ষতিকর হলেও ব্লু-নেট জাল ব্যবহারে নির্বিচারে ধ্বংস হচ্ছে নানা প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণী। এতে নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয় শিকারীরা জানান, জীবিকার তাগিদেই তারা ঝুঁকি নিয়ে এ কাজে জড়াচ্ছেন। বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাব ও দারিদ্র্যের কারণেই তারা নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে রেণু পোনা আহরণে বাধ্য হচ্ছেন। তারা স্বীকার করেন, ব্লু-নেট জাল পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হলেও জীবিকার প্রয়োজনে এটি ব্যবহার করতে হচ্ছে।

এদিকে শিকারীদের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের কারণে তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শত কোটি টাকার এই অবৈধ বাণিজ্য একটি প্রভাবশালী চক্রের নিয়ন্ত্রণে থাকায় সাধারণ শিকারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন বলেন, অবৈধ জালের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। ইতোমধ্যে অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর