আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে নারী সংরক্ষিত আসনে অংশ নিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে নীলফামারী জেলায় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন চারজন প্রার্থী। এদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন জেলা মহিলাদলের সভাপতি তাজমিন ফৌজিয়া ওপেল।
তাজমিন ফৌজিয়া ওপেল নীলফামারী সদরের পৌরসভা এলাকার হাজি মহসিন সড়ক এলাকার জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহুরল আলমের স্ত্রী।
বিজ্ঞাপন
দীর্ঘ পথচলা, রাজপথের আন্দোলন এবং সাংগঠনিক দক্ষতার সমন্বয়ে তাজমিন ফৌজিয়া ওপেল নীলফামারীর রাজনৈতিক একটি সুপরিচিত নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে তিনি একজন সক্রিয়, সাহসী এবং সংগঠক হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে দলের দুঃসময়ে রাজপথে তার সরব উপস্থিতি এবং নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখার ভূমিকা তাকে আলাদা অবস্থান এনে দিয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত তাজমিন ফৌজিয়া ওপেল তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয় রাজনীতির পাশাপাশি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তিনি ২০০৫ সালে জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জাসাসের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে ২০১৫ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ও ২০২২ সালে তিনি সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। দলের বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সংগঠনকে সক্রিয় রাখার ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন।
দলীয় নেতাকর্মী সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিরোধী রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে তাকে বিভিন্ন সময়ে হয়রানি, ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। তবুও তিনি রাজপথ ছেড়ে যাননি বরং দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। তাজমিন ফৌজিয়া ওপেলের শক্তিশালী বক্তৃতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তৃণমূল পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা তাকে সংরক্ষিত নারী আসনের অন্য একজন সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রাখছে।
তাজমিন ফৌজিয়া ওপেল বলেন, দলের খারাপ সময়ে রাজপথে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি। দলের পাশে সবসময় ছিলাম। সেই সময়ে আমার স্বামী দলের সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন, ২০১৩ সালের রামগঞ্জ ট্রাজেডির আসামি হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকার ও নেতাকর্মীরা সেসময়ে আমাকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি হুমকি দেখিয়েছেন। এছাড়াও আমি কৃতজ্ঞতা জানাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতি যে দল আমাকে রাজনীতি ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, আমি নীলফামারী শিল্পকলা একাডেমির শিক্ষক, বাংলাদেশ বেতার রংপুরের নিয়মিত ক শ্রেণির শিল্পী এবং রিদম সংগীত বিদ্যালয়ে অধ্যক্ষের দায়িত্বে আছি। আমার দীর্ঘ সময়ে রাজনীতিতে আন্দোলন সংগ্রাম থেকে শিখেছি, রাজনীতি মানে শুধু পদ পদবি না, মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই। দলের কোনো খারাপ সময়ে আমি ছেড়ে যাব না। আমি দলের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমা করেছি। আমি সবার কাছে দোয়া ও সমর্থন চাই। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে তৃণমূল মানুষের হয়ে সংসদে কথা বলব। আমি নারীদের অধিকার ও উন্নয়নে কাজ করব।
প্রতিনিধি/এসএস




