নড়াইলের লোহাগড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে প্রাথমিকভাবে শোকজ করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে শোকজ প্রাপ্ত দুই শিক্ষকদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শোকজের জবাব যথাযথ দেওয়া না হলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে নড়াইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মহিউদ্দিন গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, লোহাগড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রানী চক্রবর্তী পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী কৃষ্ণ হালদারকে ব্লাক বোর্ডের কালি মোছার ডাস্টার দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেদম মারধর করেন। এতে তার শরীরে ব্যাপক ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। অসুস্থ কৃষ্ণ হালদারকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর আগে গত বুধবার (১ এপ্রিল) স্কুলের আরেক শিক্ষক দীপক কুমার ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী কৃষ্ণ হালদারকে অমানবিক শারীরিক নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
নির্যাতনের ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুমানা আক্তারকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি বলে জানিয়েছিলেন ভুক্তভোগী কৃষ্ণ হালদারের পরিবার। বরং নির্যাতনের ব্যাপারে প্রধান শিক্ষককে জানানোর ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে কৃষ্ণ হালদারকে শিক্ষক রানী চক্রবর্তী ব্লাক বোর্ডের কালি মোছার ডাস্টার দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেদম মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পরের দিন ৭ এপ্রিল শিক্ষার্থী নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রচার হয়।
পরে উপজেলা শিক্ষা অফিসার অনিমেষ কুমারের কাছে অভিযোগ দেওয়া হলে ৮ এপ্রিল তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত তদন্ত কমিটি ছয় কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত কমিটির প্রধান হলেন লোহাগড়া উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী এবং অন্য দু’জন সদস্য হলেন এ টি ও দিবাকর কুমার নাগ ও দেবাশীষ সিংহ।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মহিউদ্দিন আহম্মদ বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দুই শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা হিসেবে বদলি বা মামলা দায়েরের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস




