চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এলাকায় প্রকাশ্যে দিবালোকে হরিণ জবাইয়ের ৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায় ক্ষুদ্র নিগোষ্ঠীর এক ব্যক্তি একটি মায়া হরিণকে জলাশয়ে ফেলে দা দিয়ে কুপিয়ে গলা বিচ্ছিন্ন করছে। একজন হরিণটির পা চেপে ধরে জবাইয়ে সহযোগিতা করছে।
বিজ্ঞাপন
পাশে জলাশয়ের মধ্যে একটি কুকুর দাঁড়িয়ে আছে। কিছু দূরে দাঁড়িয়ে তা দেখছে এক ব্যক্তি। আর এক ব্যক্তি ভিডিও করছে দেখে তারা জিজ্ঞেস করে কেন ভিডিও করছে। এরপর একজন তার দিকে তেড়ে আসতে দেখা গেছে। এদিকে, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন সমাজ।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রকাশ্যে হরিণ জবায়ের এমন দৃশ্য স্থানীয় মহলে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
জানা গেছে, গত ১১ এপ্রিল উপজেলার ইছাখালি ইউনিয়নের টেকেরহাট বাদামতলী এলাকায় একটি হরিণ জবাইয়ের ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন
মিরসরাই উপকূলীয় রেঞ্জ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটা সময় মিরসরাই উপজেলার উপকূলীয় এলাকার অন্তত বিশ কিলোমিটার জুড়ে সবুজ ম্যানগ্রোভ বন ছিল। হাজার হাজার মায়া হরিণের পাশাপাশি এই বনে বিভিন্ন প্রজাতির শিয়াল, সাপ, মেছো বাঘসহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী ছিল। জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল শুরু হওয়ার পর থেকে বন উজাড়ের ফলে সব ধরনের বন্যপ্রাণী এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। শিল্পাঞ্চল স্থাপনের জন্য অধিগ্রহণ করা এলাকা ও এর বাইরে এখনো টিকে থাকা কিছু বনে মায়া হরিণের অস্তিত্ব টিকে আছে। দুষ্কৃতিকারী কর্তৃক জবাই করা হরিণটি ওই বন থেকে দলছুট হয়ে এসেছে বলে ধারণা বন কর্মকর্তাদের।
জানতে চাইলে বন বিভাগ চট্টগ্রাম উপকূলীয় রেঞ্জের মিরসরাই রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহেনশাহ নাওশাদ বলেন, মিরসরাই জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এলাকায় ইছাখালী ইউনিয়নের টেকেরহাট বাদামতলী অংশে প্রকাশ্যে একটি মায়া হরিণ জবাইয়ের ভিডিও আমাদের নজর এসেছে। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি ১১ এপ্রিল দিনের কোনো এক সময় তিন দুষ্কৃতিকারী এই বেআইনি কাজ করেছে। ঘটনার দুই দিন পর বিষয়টি জানাজানি হলে আমরা তদন্ত করে হরিণ জবাইয়ের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের আটক করতে অভিযান শুরু করেছি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভিডিওতে দেখা ওই তিন ব্যক্তি আশপাশের খামারে কাজ করে। তাদের কথা শুনে বোঝা গেছে তারা ক্ষুদ্র নিগোষ্ঠীর। তাদের গ্রেফতার করে বন্যপ্রাণী আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিনিধি/এসএস




