মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পে বাধা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩১ পিএম

শেয়ার করুন:

ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পে বাধা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ
অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলাম

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সরকারি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণকাজে বাধা, চাঁদাদাবি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। বর্তমান অভিযোগের সঙ্গে অতীতেও একই ধরনের অভিযোগ থাকায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

অভিযোগে অভিযুক্ত হাজী মো. নজরুল ইসলাম বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।


বিজ্ঞাপন


সোমবার রাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আর রাদ করপোরেশন -এর আইন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন শ্যামনগর থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে জানান, পূর্ব দুর্গাবাটি এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণকাজ চলছিল।

প্রকল্পের জন্য জেলা প্রশাসন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের অনুমোদিত সরকারি জমিতে সিসি ব্লক প্রস্তুত ও ভারী যন্ত্রপাতি রাখা হয়। গত ৭ এপ্রিল থেকে কাজ শুরু হয়ে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত নির্বিঘ্নে চললেও ওই দিন রাতে নজরুল ইসলাম কয়েকজন সহযোগী নিয়ে এসে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন।

অভিযোগে বলা হয়, তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ভারী যন্ত্রপাতি পুড়িয়ে ফেলার হুমকি দেন।

পরবর্তীতে ১৪ এপ্রিল সকালে তিনি ৩০-৪০ জন লোক নিয়ে পুনরায় প্রকল্প এলাকায় গিয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধরের হুমকি দেন। এমনকি স্কেভেটরের চালক ও সহকারীকে জিম্মি করে নির্মিত বাঁধ ভেঙে ফেলা হয়। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।


বিজ্ঞাপন


বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতার কারণে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখেছেন এবং প্রকল্পের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদুর রহমান জানান, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে অবহিত করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগ অস্বীকার করে হাজী মো. নজরুল ইসলাম বলেন,সরকারি সামাজিক বনায়নের জায়গায় অবৈধভাবে ব্লক নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছিল। পরিবেশ রক্ষার স্বার্থেই তিনি বাধা দিয়েছেন। এছাড়া পূর্বের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

এর আগে ২০২৫ সালের ৮ মার্চ একই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাঁদাদাবি ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছিল আর রাদ করপোরেশন।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, প্রকল্প এলাকায় কাজ চালিয়ে যেতে ১২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দাবি পূরণ না করলে প্রকল্পের মালামাল লুটপাট ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কর্মরত শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

তখনও শ্যামনগর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয় এবং প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে বিষয়টি জানানো হয়েছিল।

একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বারবার একই ধরনের অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বাধা এবং নিরাপত্তাহীনতা দূর করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে জনকল্যাণমূলক এই গুরুত্বপূর্ণ বাঁধ নির্মাণকাজ দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এএম/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর