পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে উপকূলীয় জেলা বরগুনার মাছ বাজারে ইলিশের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। সরবরাহ সংকট ও বাড়তি চাহিদার কারণে পাইকারি থেকে খুচরা সব বাজারেই ইলিশ কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
সোমবার (১২ মার্চ) বরগুনা পৌর মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাত্র ২৫০ গ্রাম ওজনের ছোট আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১২০০ টাকা দরে। ৭৫০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ২৬০০ টাকা কেজি এবং ১ কেজি ওজনের বড় ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার থেকে ৪৫০০ টাকায়।
বিজ্ঞাপন

ব্যবসায়ীরা জানান, বঙ্গোপসাগরে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ ধরা না পড়ায় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি সংকট, যার কারণে জেলেরা সমুদ্রে কম যেতে পারছেন। ফলে বাজারে ইলিশের সরবরাহ কমে গিয়ে দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।
পাইকারি বাজারের এই ঊর্ধ্বগতির প্রভাব সরাসরি পড়েছে খুচরা বাজারে। জেলার বিভিন্ন বাজারেই একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। জেলে ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন
খুচরা মাছ বিক্রেতা ইমরান বলেন, বাজারে ইলিশের সরবরাহ খুবই কম। চাহিদার তুলনায় মাছ না থাকায় বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আমরা খুব অল্প লাভেই মাছ বিক্রি করছি।
পাইকারি আড়তদার ব্যবসায়ী পনু মিয়া বলেন, জেলার প্রধান উৎস বঙ্গোপসাগর ও স্থানীয় নদ-নদী। তবে এসব উৎসে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা না পড়ায় বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, যা দেশের অন্যান্য বাজারেও ছড়িয়ে পড়ছে।

সাঈদুর রহমান এক ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান দামে ইলিশ কেনা তাদের সাধ্যের বাইরে চলে গেছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য ইলিশ এখন প্রায় অধরাই।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন বলেন, পহেলা বৈশাখ এটি আমাদের একটি উৎসব হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার জন্য ইলিশ মাছের চাহিদা একটু বেশি। এমতাবস্থায় নদী ও সাগরেও মাছ পাচ্ছে না জেলেরা তাই একটু চওড়া দাম। এছাড়াও জ্বালানি সংকটের প্রভাব তো রয়েছেই। তবে আগামীকাল থেকে আবার হয়ত সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
প্রতিনিধি/এসএস




