মাত্র একদিনে শিশুদের সাঁতারের বেসিক সব কিছু খুব সহজে শিখাতে পারদর্শী আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষক তোফাজ্জল হোসেন। দক্ষ সাঁতার প্রশিক্ষক হিসেবে নারায়ণগঞ্জে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে।
বর্তমানে লেখাপড়ার পরই সন্তানদের নিয়ে অভিভাকদের সবচেয়ে বড় চিন্তা থাকে তাদের সাঁতার শেখানো নিয়ে। নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য এ চিন্তা দূর করে দিয়েছেন সাতারু তোফাজ্জল হোসেন।
বিজ্ঞাপন
আগের মতো এখন পাড়া-মহল্লা এমনকি গ্রামাঞ্চলেও এত পুকুর বা জলাশয় নেই, যেখানে তাদের সাঁতার শেখানো যায়। বাংলাদেশে প্রতিবছর পানিতে ডুবে মারা যাচ্ছে প্রায় ১৮ হাজার মানুষ। তার মধ্যে ১৪ হাজারই শিশু—অর্থাৎ ৭৫ শতাংশের বেশি।
কিন্তু নারায়ণগঞ্জের সিটি কর্পোরেশন শিশুদের সাঁতার শিখানোর এক মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ জন্য সিটি পার্কে নির্মাণ করা হয়েছে অত্যাধুনিক একটি সুইমিং পুল। এখানে অত্যন্ত দক্ষ প্রশিক্ষকের মাধ্যমে দ্রুত সাঁতার শেখানো হয়।

এখানেই প্রশিক্ষক হিসেবে আছেন, আন্তর্জাতিক মানের সাতারু মো. তোফাজ্জল হোসেন। সাঁতার শেখানোতে তার 'নিনজা টেকনিকের' কারণে শিক্ষার্থীদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি। মাত্র একদিনেই শিক্ষার্থীদের সাঁতারের বেসিক সব কিছু শিখিয়ে ফেলেন আজব এই প্রশিক্ষক। খুর সহজে তিনি শিশুদের সাাঁতার শেখাতে পারেন। তার বাবাও ছিলেন জাতীয় পর্যায়ে স্বর্ণ পদক জয়ী সাঁতারু।
বিজ্ঞাপন
মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকার কাশীপুর গ্রামটি বহু বছর ধরেই সারাদেশে সাতারুদের গ্রাম হিসেবে পরিচিত। কারণ, কাশীপুর থেকে দুই ডজনেরও বেশি সাতারু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে পদক জয় করেছেন।
তোফাজ্জল হোসেন টানা ২৩ বছর সাঁতারু হিসেবে বাংলাদেশে নৌ বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। জাতীয় পর্যায়ের সাঁতার প্রতিযোগিতার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সাঁতার প্রতিযোগিতায়ও অংশ গ্রহণ করেছেন তিনি। নৌ বাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর বর্তমানে তিনি সিটি পার্কের সুইমিং পুলের সাঁতার প্রশিক্ষক হিসেবে আছেন।
সাঁতার না জানার কারণে প্রতিবছর শীতলক্ষ্যা নদী পর হতে গিয়ে অনেক মানুষ নৌকাডুবিতে প্রাণ হারান। কয়েক বছর আগে, এক কলেজছাত্র শীতলক্ষ্যা নদী পর হতে গিয়ে নৌকাডুবিতে মারা যায়। এ ঘটনাটি তোফাজ্জল হোসেনকে মর্মাহত করে। এর পর থেকেই এলাকার শিশুদের সাঁতার শিখানোর মনস্থির করেন তিনি। পরে সিটি পার্কে সুইমিং পুল তৈরি করা হলে, এখানে প্রথম থেকেই তিনি প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত আছেন।
ছুটির দিন হওয়ায় শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সিটি পার্কের সুইমিং পুলে সরেজমিনে গিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ভিড় দেখা গেলো। আমলাপাড়া আদর্শ প্রাথমিক স্কুলের ১০ বছরের শিক্ষার্থী মো. ফাহিম মোল্লা এসেছে তার বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে সাঁতার ক্লাসে ভর্তি হতে। তার মা সুফিয়া আক্তার জানান, তাদের বাসা সদর উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন শিবু মার্কেট এলাকায়। তার ছেলে ফহিম এবং ১৬ বছর বয়সী কলেজ পড়ুয়া মেয়ে জেবা মোবাশ্বিরা- কেউই সাঁতার জানে না।
তিনি বলেন, বিভিন্ন ছুটিতে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকলে সোনারগাঁওয়ে গিয়ে গ্রামের বাড়ির পুকুরে নিজেরা সাঁতার শেখানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু তাদের সাঁতার শেখাতে পারিনি। তাই সিটি পার্কের সুইমিং পুলে সাঁতার শেখানো হয় শুনে ছেলে-মেয়েকে প্রশিক্ষণ ক্লাসে ভর্তি করতে এসেছি।
সুফিয়া আক্তার বলেন, ছেলের প্রথম ক্লাসের পারফর্মেন্সে আমি যারপরনাই খুশি। কারণ, বিগত দুই বছরের প্রচেষ্টায় যা পারিনি, এখানে এই প্রশিক্ষক প্রথম দিনের ক্লাসেই ছেলেকে সাঁতারের বেসিক শিক্ষাটা দিতে পেরেছেন।
এ ব্যাপারে তোফাজ্জল হোসেন বলেন, নারায়ণগঞ্জে যেসব অভিভাবক সন্তানদের সাঁতার শিখানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন, তারা খুর সহজেই সিটি পার্কের সুইমিং পুলে সাঁতার প্রশিক্ষণ কোর্সে তাদের ভর্তি করতে পারেন।
সুইমিং পুলের পাশাপাশি এখানে শরীরচর্চার জন্য আধুনিক জিমও আছে। নারায়ণগঞ্জ নগরীর প্রাণকেন্দ্রে আলী আহম্মদ চুনকা পাঠাগারের গলিতে শহরের প্রাচীন বিদ্যাপীঠ মর্গান স্কুল এন্ড কলেজের বিপরিতে অবস্থিত সিটি করর্পোরেশনের পার্কের শেষ প্রান্তে ওই জিম ও সুইমিং পুলটি অবস্থিত। প্রয়োজনে তার সঙ্গে -০১৯৪১-৪৪৫৩৪৪ এই মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ করেছেন।
-এমএমএস




