শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

পঞ্চগড়ে ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে তর্কের জেরে সচিবের মুখে ডিম নিক্ষেপ

জেলা প্রতিনিধি, পঞ্চগড়
প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫০ এএম

শেয়ার করুন:

পঞ্চগড়ে ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে তর্কের জেরে সচিবের মুখে ডিম নিক্ষেপ

পঞ্চগড় সদর উপজেলায় আর্থিক হিসাব নিয়ে তর্কের জেরে এক পরিষদের চেয়ারম্যানকে মারতে চাওয়ার অভিযোগে স্থানীয়দের রোষের মুখে পড়েন আলিউল ইসলাম নামে এক ইউপি সচিব। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এসময় স্থানীয়রা ওই সচিবকে ডিম নিক্ষেপ করে। পরে ইউপি চেয়ারম্যান ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় চত্বরে এ ঘটনাটি ঘটে। এদিন বিকেল থেকেই তিনি নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন।


বিজ্ঞাপন


ইউনিয়ন পরিষদের সূত্রে জানা গেছে, হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আলিউল ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ফান্ডের অর্থ তছরুপ, ইউপি সদস্য, গ্রাম পুলিশ ও সেবা গ্রহীতাদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সব ইউপি সদস্যদের নিয়ে একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন চেয়ারম্যান সাইয়েদ নুর-ই-আলম। এ সময় প্রশ্নের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন সচিব আলিউল ইসলাম। এক পর্যায়ে তিনি ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

বিতণ্ডা চলাকালে এক পর্যায়ে চেয়ারম্যানের ওপর মারমুখী হয়ে ওঠেন সচিব। উপস্থিত ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়রা পরিষদে এসে সচিবকে অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় তারা তার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান। একই সঙ্গে তাকে এই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রত্যাহারের দাবিও তোলেন।

আরও পড়ুন

ভোজ্য তেল মজুতসহ নানা অভিযোগে ডোমারে ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

প্রত্যক্ষদর্শী প্যানেল চেয়ারম্যান গোবিন্দ চন্দ্র রায় বলেন, আমরা সভায় আয়-ব্যয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে সচিব হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে যান। পরে চেয়ারম্যানের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে তিনি চেয়ারম্যানের দিকে তেড়ে যান। আমরা ও গ্রাম পুলিশ মিলে তাকে সরিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি।

ইউপি সদস্য শফিউল আলম সফিক বলেন, এই সচিব যোগদানের পর থেকেই নিজের ইচ্ছেমতো চলেন। অহেতুক ফান্ডের টাকা ব্যয় করেন। আমাদেরকে সবসময় তাচ্ছিল্য করে কথা বলেন, আজকে স্বয়ং চেয়ারম্যানের সঙ্গে যেটা হলো তা মানার মতো নয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আমাদের চেয়ারম্যান টানা দুইবারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। তিনি একজন নীতিবান মানুষ। তার সঙ্গে আজকে যা ঘটেছে, তাতে আমরা ক্ষুব্ধ। এমন আচরণের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।

ইউপি চেয়ারম্যান সাইয়েদ নুর-ই-আলম বলেন, সচিব একক সিদ্ধান্তে পরিষদের চেয়ার-টেবিলসহ কিছু কেনাকাটা করেন। কেনাকাটায় অতিরিক্ত দাম দেখিয়ে ভাউচার করেন। এসব জিজ্ঞেস করলে তিনি অযৌক্তিক আচরণ করেন এবং আমার ওপর মারমুখী হন। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। এনিয়ে একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ইউপি সচিব আলিউল ইসলাম বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার আমি বাইরে ছিলাম। চেয়ারম্যান আমাকে ফোনে ডেকে নেন, যেহেতু দুইটি ইউপির দ্বায়িত্বে আছি আমি। পরে ইউনিয়ন পরিষদে আলোচনা হয় বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ফুটবল বিতরণ নিয়ে। এসময় রোজার ঈদে গরু জবাই, চাল বিতরণের বস্তা বিক্রির টাকা নিয়ে কথা হয়। আমি সব কিছুর হিসাব চাই। এতে চেয়ারম্যান রাগান্বিত হয়ে আমাকে মারতে চান। আমি উঠে দাঁড়ালে সবাই আমাদের শান্ত করেন। পরে জামাত-শিবিরের লোকজন এসে আমার অফিসে ভাঙচুর করে। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনার খবর শুনেছি। অভিযোগের কপি পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর