জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে স্থগিত থাকা শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মো. মাহমুদুল হক রুবেল বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ১২৮টি কেন্দ্রে পোস্টাল ভোটসহ রুবেল পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ১১৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাসুদুর রহমান মাসুদ পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৫১ ভোট। বাসদের প্রার্থী মিজানুর রহমান পেয়েছেন ৪৮০ ভোট।
বিজ্ঞাপন
কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ শেষ হয়। এ আসনে ভোট পড়েছে ৫২.১৯ শতাংশ। বাতিল হয়েছে ২ হাজার ৮৬ ভোট।
ভোট চলাকালে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বেলা সোয়া ৩টার দিকে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন জামায়াত প্রার্থী মাসুদুর রহমান মাসুদ। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তাঁর এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে এবং জাল ভোট দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপির প্রার্থী বলেন, নিশ্চিত পরাজয় জেনে জামায়াত প্রার্থী এসব অভিযোগ তুলছেন। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা ভোট দিয়েছেন।
১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে ১২৮টি ভোটকেন্দ্রে ৭৫১ ভোটকক্ষ ছিল। মোট ভোটার ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: বগুড়া-৬ উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী বিএনপির বাদশা
নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন ছিল। জেলায় ৩২টি মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স দায়িত্ব পালন করে। প্রতিটি কেন্দ্রে ৫ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ৬ জন করে পুলিশ সদস্য ও ১৩ জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়া দুটি উপজেলায় ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাচন কমিশনের ১৮ জন পর্যবেক্ষক এবং নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির ৩ জন যুগ্ম জেলা জজ দায়িত্ব পালন করেন। সেনাবাহিনীর ৮টি মোবাইল টিমে ২০০-এর বেশি সদস্য, ১৬ প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের ১৪টি টিম এবং পুলিশের প্রায় ১ হাজার ১৫০ সদস্য মোতায়েন ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরে তাঁর ছোট ভাই মাসুদুর রহমানকে প্রার্থী করে দলটি।
এআর




