ঈদ মানে আনন্দ, একটু বাড়তি বিনোদন। কিন্তু কুষ্টিয়া উল্লেখ যোগ্য কোনো বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় জেলাজুড়ে ঈদের আমেজ দেখা যায় পদ্মা এবং গড়াই নদীর পাড়ে। পদ্মা এবং গড়াই নদীতে পানি না থাকায় জেগে উঠেছে বিশাল চর। আর জেলার এক পাশ দিয়ে বয়ে গেছে পদ্মা আর মধ্য দিয়ে দিয়ে বয়ে গেছে গড়াই নদী। তাই ঈদের ছুটিতে অবকাশ কাটাতে এই জেলার মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রিয় গড়াই এবং পদ্মা নদীর পাড়।
জেলার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপ নগরে পদ্মা নদীর পানি শুকিয়ে বিশাল চর জেগে উঠেছে। ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সেই চর ও নদীর পাড়ে বেড়াতে আসছে হাজারও মানুষ। স্থানীয়ভাবে এলাকাটি আবেদের ঘাট নামে পরিচিত।
বিজ্ঞাপন

ঈদের দিন থেকেই পদ্মার পাড় ও চরে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে আসছেন অনেকে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সি মানুষ মেতে উঠেছে আড্ডা আর উল্লাসে। তরুণদের কেউ কেউ বালুচরে খেলছেন ফুটবল বা ক্রিকেট।

একই অবস্থা ভেড়ামারার পাকশী লালন শাহ সেতু এলাকা এবং মনি পার্ক এলাকা।
বিজ্ঞাপন

ঈদের লম্বা ছুটিতে একুট নিরিবিলি পরিবেশে অবকাশ যাপন করতে মানুষ দলে দলে আসছেন এই এলাকায়। চরে নেমে আনন্দ করছেন। কেউবা নৌকায় ভাড়া করে সপরিবারে ঘুরছেন শান্ত পদ্মা নদীতে। কেউ বা দল বেধে খেলা করছেন। করছেন গান পরিবেশন।

স্থানীয় বাসিন্দা তরিকুল বলেন, প্রতিবছর দুই ঈদে নদীর পাড়ের চিত্র বদলে যায়। ঈদের দিন থেকে টানা এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন এখানে কয়েক হাজার মানুষের ভিড় জমে।
দর্শনার্থীদের অনেকে জানায়, শহরের কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির মধ্যে আসতে পেরে তারা দারুণ খুশি। অনেকেই চান, নদীর পাড়ে ভালো মানের বিনোদনকেন্দ্র গড়ে উঠুক, যাতে আরও বেশি মানুষ এখানে ঘুরতে আসতে পারে।

ঘুরতে আসা মাইমুনা তাবাসসুম বলেন, আমাদের উপজেলায় কোনো বিনোদনকেন্দ্র নেই। তাই প্রতিবছর আমরা পদ্মার পাড়ে আসি, প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করি। অনেক মানুষ আজ এখানে এসেছে।

এদিকে শত শত মানুষের ভিড়ে মুখরিত কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুরের পদ্মা-গড়াই মোহনা। এবং কুমারখালীর গড়াই নদীর উপর নির্মিত সেতু। বিভিন্ন বয়সের মানুষের ভিড়ে সেখানে তৈরি হয়েছে ভিন্ন ইমেজ। এসব এলাকার দর্শনার্থীদের কেন্দ্র করে নদীর পাড়ে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী দোকানপাট। কেউ খাবার আবার কেউ বাচ্চাদের খেলনার দোকান বসিয়েছে। যা উৎসবের আমেজকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ঝালমুড়ি ব্যবসায়ী তুফান আলী বলেন, উৎসব উপলক্ষে নদীর পাড়ে মানুষের অনেক ভিড় হয়। এতে আমাদের বেচাকেনাও ভালো হয়।

কুষ্টিয়ার মিনি কক্সবাজার নামে পরিচিত পদ্মা গড়াই মোহনা বা মহানগর ট্যাগ। এখান থেকে পদ্মা নদী থেকে সৃষ্টি হয়েছে গড়াই নদের। বিশাল এই এলাকায় নদীর সৌন্দর্যের সাথে আছে বিশাল চর এবং কাশবন। তাই বিভিন্ন এলাকার দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন এখানে একটু নিরিবিনি সময় কাটানোর জন্য। এখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে মানুষের মনে একটু শঙ্কা থাকলেও ঈদের ছুটিতে এখানে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
_20260324_081359746.webp)
এছাড়ার ঈদের আনন্দে বাড়তি জোগান দিতে এই অঞ্চলের মানুষ ছুটে যান ছেউড়িয়ার ফকির লালন সাঁইয়ের আখড়া বাড়ি। কুমারখালীর শিলাইদহে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি এলাকা। এবং খোকসার ইউটিউব গ্রামে। তবে তার মধ্যেও যেন কুষ্টিয়া এই দুই নদীর পাড় ঘিরেই যেন জমে উঠে ঈদ উৎসব। আর এই কারণেই এসব এলাকায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেয়া বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন বলেন, ঈদের আনন্দে মানুষের মধ্যে যেন কোনো ব্যাঘাত না ঘটে সেজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেইসঙ্গে যেসব এলাকায় ব্যাপক জন সমাগম হয়, সেসব স্থানে সাদা পোশাকে পুলিশের বিশেষ টিম কাজ করছে।
প্রতিনিধি/এসএস

