সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

নাটোরে ৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা অনুষ্ঠিত 

জেলা প্রতিনিধি, নাটোর
প্রকাশিত: ২৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম

শেয়ার করুন:

নাটোরে ৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা অনুষ্ঠিত 

আধুনিক সভ্যতার আড়ালে হারিয়ে যেতে বসেছে আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা। নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ৫০ বছর ধরে এলাকাবাসীর উদ্যোগে নাটোর সদর উপজেলার ধরাইল মাঠে প্রতিবছর ঈদের দ্বিতীয় দিন অনুষ্ঠিত হয় বিলুপ্তপ্রায় এই লাঠি খেলা। খেলা দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শিশু, কিশোর, বৃদ্ধ-বৃদ্ধাসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষ মাঠের চারপাশে ভিড় করেন।

রোববার(২২ মার্চ) নাটোর সদর উপজেলা ধরাইল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা উৎসব। 


বিজ্ঞাপন


ঢাক-ঢোলের তালে তালে চলে লাঠিয়ালদের খেলার তাকমা। প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা করে পাল্টা আঘাত করতে আক্রমণের চেষ্টা চালায় লাঠিয়ালরা। লাঠিয়ালদের লাঠি ঘুরানোর দেখতে মাঠে ভিড় করেন নানা বয়সি মানুষ। 

এই খেলায় আশপাশের বিভিন্ন এলাকার লাঠিয়াল বাহিনী অংশ নেয়। গ্রামবাংলার এই খেলাকে কেন্দ্র করে মাঠের একপাশে বসেছে গ্রামীণ মেলা। এই খেলাকে কেন্দ্র করে ঈদের আনন্দ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। 

স্থানীয় যুবক আরিফুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর ঈদের পরের দিন আমাদের এই মাঠে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা অনুষ্ঠিত হয়। আমরা সারা বছর অপেক্ষায় থাকি এই উৎসবটির জন্য। লাঠি খেলা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার দর্শকরা আসেন।

খেলা দেখতে আসা রবিউল ইসলাম বলেন, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই খেলা দেখা যায় না। আমার এক বন্ধুর কাছে শুনে, খেলা দেখতে এসেছি। অনেক ভালো লাগছে, এই প্রথম লাঠি খেলা দেখলাম।


বিজ্ঞাপন


সুমন শিকদার নামে আরেকজন বলেন, ঈদের দ্বিতীয় দিনে আমাদের এলাকায় লাঠি খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলা দেখতে আমাদের বাড়িতে আত্মীয়-স্বজনরা বেড়াতে আসেন। আমরা সবাই মিলে একসাথে এই লাঠি খেলা উপভোগ করি। এই খেলা ঈদের আনন্দকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।

কলেজ শিক্ষার্থী সজীব হোসেন বলেন, প্রতিবছরই আমরা এই লাঠি খেলা দেখতে ধরাইল মাঠে আসি। খেলাটি দেখতে অনেক আকর্ষণীয়। সবাই দেখে খুব আনন্দ পায়। আমরা চাই, প্রতিবছরই যেন এ খেলা এভাবে চালু থাকে।

খেলায় অংশ নেওয়া লাঠিয়াল আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা চেষ্টা করছি, গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই খেলাটাকে টিকে রাখতে। সেজন্যে প্রতিবছর ঈদে আমরা এ খেলায় অংশগ্রহণ করি। নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করে দিতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যেন নতুন গ্রাম-বাংলার হারিয়ে যাওয়া খেলাটি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে পারি। 

প্রতিনিধি/ এজে

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর