পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে জমে উঠেছে আনন্দ আড্ডা ও খেলাধুলা। শিক্ষা ও জীবিকার প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করা অনেকেই ঈদের ছুটিতে নিজ গ্রামে ফিরে এসে বন্ধু-স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। কোথাও ইফতার পার্টি, কোথাও চা-চক্র, আবার কোথাও খেলাধুলার আয়োজন—সবশেষ ঈদের দিনের আনন্দ গ্রামীণ জনপদে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ।
গত তিনদিন উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, ঈদ উপলক্ষে তরুণদের মধ্যে আড্ডা ও ক্রীড়া আয়োজনের প্রবণতা বেড়েছে। কেউ ক্রিকেট ও ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে, আবার কেউ বন্ধুদের নিয়ে পর্যটন কেন্দ্র বা নদীর পাড়ে গিয়ে সময় কাটাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন

শুন্যেরচর গ্রামে ঈদকে ঘিরে আয়োজন করা হয়েছে ‘ওয়াজেদ নাঈম রাউন্ড ক্রিকেট টুর্নামেন্ট’, যার ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতে দেখা গেছে। স্থানীয় তরুণদের অংশগ্রহণে মাঠে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। সেখানে দর্শক সারিতে ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা ও মিশর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র রাফিউল আমীন। তিনি বলেন, ছোট-বড় সবাই এখন ক্রিকেট, ফুটবল, গানবাজনা আর মোবাইল গেইম-জুয়া নিয়ে আছে। পুরোনো ঐতিহ্যের ক্রীড়া-বিনোদন সব হারিয়ে যেতে বসেছে।

জানা গেছে, ঈদের পরদিন সাগুরিয়া শহীদ আলী মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্কুলটির এসএসসি ২০২১ ব্যাচের উদ্যোগে রৌপ্যকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে। আয়োজকরা জানান, ঈদের ছুটিতে এলাকার তরুণদের একত্র করতে এ ধরনের আয়োজন করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন

এছাড়া উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার সবখানে ক্রীড়া-বিনোদনের আয়োজন রয়েছে বলে বিভিন্ন তরফে জানা যায়।
এদিকে, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এসএসসি ২০১৯ ব্যাচের মো. ফজলে রাব্বী, আরিফ, ইফতেখার, আজিম, রিসাদ আল আদনানি, ইশতিয়াক ইমন, কারিম ও সোহেল রানাসহ কয়েকজন বন্ধু বাড়িতে এসে ঈদের দু'দিন আগে কমলার দিঘি সমুদ্র সৈকতে ইফতারের আয়োজন করেন। তারা ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুষ্টিয়া, নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয় এবং হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজের বিভিন্ন বিভাগে পড়াশোনা করছেন বলে জানা যায়।

জাহাজমারা সিডিএসপি বাজার এলাকায় পুরাতন বেড়িবাঁধের পাশে কয়েকটি দোকানের সামনে রাতে বন্ধুদের আড্ডা ও খাওয়াদাওয়ার জমজমাট দৃশ্য দেখা গেছে। সুখচর রামচরণ বাজার এলাকাতেও একই ধরনের আড্ডায় মেতে উঠতে দেখা যায় স্থানীয় তরুণদের।

গ্রামের বিভিন্ন মাঠে শিশু-কিশোরদের ফুটবল ও ক্রিকেট খেলতে দেখা গেছে। কেউ বেলুন উড়াচ্ছে, কেউ বাঁশি বাজাচ্ছে, আবার কেউ দল বেঁধে লুডু খেলে সময় কাটাচ্ছে। বিশেষ করে- শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের দিন পর্যটন কেন্দ্র ও সমুদ্র সৈকতে বিনোদন প্রেমীদের আনন্দে প্রাণ ফিরে পেয়েছে গ্রামীণ পরিবেশ।
তবে আগের মতো ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাধুলার তেমন দেখা মেলেনি। মার্বেল খেলা, হাডুডু, কাবাডি, লাঠিখেলা কিংবা ঘুড়ি ওড়ানোর মতো এক সময়ের জনপ্রিয় খেলাগুলো এখন প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। স্থানীয় প্রবীণরা জানান, আধুনিকতার প্রভাবে নতুন প্রজন্ম মোবাইল গেইম-জুয়া ও আধুনিক খেলাধুলার দিকে ঝুঁকছে। ফলে পুরোনো ঐতিহ্য ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

গ্রামবাংলার এই ঈদ আনন্দ এখনও মানুষের মধ্যে মিলনমেলার সুযোগ তৈরি করলেও, ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা টিকিয়ে রাখতে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
প্রতিনিধি/এসএস

