পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র ঘিরে বাড়ছে দর্শনার্থীদের আনাগোনা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর সমুদ্র সৈকত ও পর্যটন স্পটগুলোতে ভ্রমণপিপাষুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও বন বিভাগ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
হাতিয়া উপজেলায় নিঝুম দ্বীপ পর্যটন কেন্দ্র, বুড়িরচর, রহমত বাজার, গোলতলা পর্যটন এলাকা এবং চরইশ্বর কমলার দিঘি সমুদ্র সৈকতসহ বেশ কয়েকটি দর্শনীয় স্থান রয়েছে- যা প্রতি বছর ঈদের ছুটিতে প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণ করে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি এসব স্থানে যাতায়াত, নিরাপত্তা ও পর্যটকদের সুবিধার বিষয়গুলোও প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৮ মার্চ) সরেজমিনে বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নিঝুম দ্বীপ পর্যটন কেন্দ্র, বুড়িরচর, গোলতলা ও চরইশ্বর কমলার দিঘি সমুদ্র সৈকত মনোরম পরিবেশে দর্শনার্থীদের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ঈদের আগেই পর্যটন এলাকাগুলোতে দর্শনার্থীদের বেশ উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত শিক্ষার্থী ও তরুণদের খেলাধুলা ও আড্ডা দিতে দেখা যায়।

ঈদের ছুটি উপলক্ষে বিভিন্ন শহর-জেলা থেকে অনেক শিক্ষার্থী নিজ বাড়িতে এসে বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছেন। হাতিয়া এসএসসি ২০১৯ ব্যাচের মো. ফজলে রাব্বী, আরিফ, ইফতেখার, আজিম, রিসাদ আল আদনানি, ইশতিয়াক ইমন, কারিম ও সোহেল রানাসহ কয়েকজন বন্ধু কমলার দিঘি সমুদ্র সৈকতে ইফতারের আয়োজন করেন। তারা ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুষ্টিয়া, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজের বিভিন্ন বিভাগে অধ্যয়নরত বলে জানা যায়।
বিজ্ঞাপন

কমলার দীঘি সমুদ্র সৈকতে স্থানীয় হাতিয়া ট্রাভেলস নামের একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান পর্যটকদের জন্য তাবু ও হ্যামক (কাপড়ের দোলনা) ভাড়া দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়ী তানজিম জানান, তাদের এখানে একটি ক্যান্টিন রয়েছে, আগত পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের খাবার সরবরাহ করা হয় এবং থাকারও ব্যবস্থা রয়েছে।

পর্যটন এলাকাগুলোতে বন বিভাগের সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। নলচিরা রেঞ্জের ওছখালী বিট কর্মকর্তা মো. বাবুল হক জানান, বর্তমানে যেভাবে দর্শনার্থীর উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে, ঈদের সময় এখানে পর্যটকদের ঢল নামবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রেঞ্জ কর্মকর্তা মঈনউদ্দীন চৌধুরী বলেন, বন বিভাগ পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তার বিষয়ে সজাগ আছে। একইভাবে সাগুরিয়া বন এলাকায় পর্যটন কেন্দ্রসমূহে প্রহরীদের টহল জোরদার আছে বলে জানিয়েছেন রেঞ্জ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।
নিঝুম দ্বীপ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. মনিরুল ইসলাম জানান, মোক্তারিয়া ঘাট, রাস্তা, পর্যটন কেন্দ্র, হোটেল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশের নজরদারি রয়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
এছাড়া, ভাসানচর থানা অফিসার ইনচার্জ মো. রফিকুল হাসান জানান, ঈদ উপলক্ষে এখানকার যেকোনো বিষয় স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।
এদিকে, পর্যটন এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো সমস্যা নেই বলে জানিয়েছেন হাতিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কবির হোসেন। তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের যেকোনো ধরনের হয়রানি ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ঈদের ছুটিতে হাতিয়ার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীর উপস্থিতি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে। সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঈদ উপলক্ষে উপজেলা শহর জিরো পয়েন্টে যানজট নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে কাজ করতেও দেখা গেছে।
প্রতিনিধি/এসএস

