শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

‘আইসিইউর অভাবে’ রামেকে ৬ দিনে ১৮ শিশুর মৃত্যু

জেলা প্রতিনিধি, রাজশাহী
প্রকাশিত: ২০ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৫ এএম

শেয়ার করুন:

‘আইসিইউর অভাবে’ রামেকে ৬ দিনে ১৮ শিশুর মৃত্যু

নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউর বেডের অভাবে গত ৬ দিনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ১৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রামেক হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটের প্রধান ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল এ তথ্য জানিয়েছেন।


বিজ্ঞাপন


হতাশা প্রকাশ করে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দিয়েছেন তিনি। যেখানে তুলে ধরেছেন অসুস্থ শিশুকে বাঁচাতে স্বজনদের আর্তনাদের কথা। রাজশাহীর মানুষের সর্বোচ্চ চিকিৎসা পাওয়ার হাহাকার কেউ শুনে না বলেও তিনি ওই পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘মার্চ মাসের ১১ তারিখ থেকে ১৬ তারিখের মধ্যে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু আইসিইউতে ভর্তির অপেক্ষায় থাকা ১৮টি নিষ্পাপ বাচ্চা পৃথিবী থেকে আল্লাহর কাছে চলে গেছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১২ শয্যার শিশু আইসিইউতে তাদের জন্য আমরা একটি বিছানা দিতে পারিনি।’

তিনি বলেন, ‘দেশের বৃহত্তম ৪০ শয্যার এ আইসিইউ কমপ্লেক্সটিতে (12 Adult, 16 Geriatric, 12 Paediatric) প্রতিদিন অপেক্ষমাণ সিরিয়াল আপডেট আমি নিজেই করি। আজ ১৯ তারিখ সকালে শিশু আইসিইউতে সেটা ৩৭ নং পর্যন্ত এসেছে। সর্বশেষ সিরিয়ালের রোগীর ঠিকানা রাজবাড়ি জেলা। অর্থাৎ সেই ঢাকা বিভাগের রোগীও এখানে চলে এসেছে একটি বিছানা পাবার জন্য।’


বিজ্ঞাপন


0327d68f-3c23-4314-b258-a726f04233c4

ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল তুলে ধরেন, আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে রাউন্ডের পর একটা বাচ্চার বাবা একটা আইসিইউ বেডের জন্য এমন ভাবে কান্নাকাটি করছিল, খুব খারাপ লাগছিল, অসহায়ত্ব বোধ করছিলাম। পাবনা থেকে এসেছেন। এটা ঢাকা শহরের কোনো বাচ্চার অভিভাবকদের কান্নাকাটি হলে দেশের দ্বায়িত্বশীলদের মনে হয়ত একটু সহানুভূতি পেত, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিশু আইসিইউ তৈরি হয়েও যেতে পারতো। রাজশাহীর মতো মফস্বল শহরের মানুষের সর্বোচ্চ চিকিৎসা পাওয়ার হাহাকার কেউ শোনে না।

এই চিকিৎসক বলেন, রাজশাহীতে শিশু হাসপাতাল বিল্ডিং, শিশু আইসিইউর অবকাঠামো সব তৈরি হয়ে আছে, শুধু দরকার সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও সদিচ্ছা। আসুন, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করি, আমাদের রাজশাহীর শিশু আইসিইউতে ভর্তির অপেক্ষমাণ অভিভাবকদের কান্নাকাটি সরকারের সর্বোচ্চ মহলে পৌঁছে যায়, জাতির ভবিষ্যতে বাচ্চাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত হয়। আমিন।’

এদিকে, বিষয়টি সচেতন মহলে বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে। নগরীতে নির্মাণ হওয়া শিশু হাসপাতাল চালু করার দাবি জানিয়েছে তারা।

প্রতিনিধি/এসএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর