বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

পাবনায় নেতাদের ভাগবাঁটোয়ারা না হওয়ায় চাল পেল না সাড়ে ৪ হাজার দুঃস্থ

জেলা প্রতিনিধি, পাবনা
প্রকাশিত: ১৯ মার্চ ২০২৬, ১২:০৩ পিএম

শেয়ার করুন:

পাবনায় নেতাদের ভাগবাঁটোয়ারা না হওয়ায় চাল পেল না সাড়ে ৪ হাজার দুঃস্থ

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পাবনার ঈশ্বরদীর দুটি ইউনিয়নের সাড়ে ৪ হাজার দুঃস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল বিতরণ বন্ধ রয়েছে। চেয়ারম্যান, মেম্বার ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এনিয়ে এলাকায় আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, সারা দেশের মতো ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ও সাঁড়া ইউনিয়নের ৪ হাজার ৩৪০ হতদরিদ্র ও দুঃস্থ মানুষের ভিজিএফ চাল পাওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে সাঁড়া ইউনিয়নের জন্য ১ হাজার ৬৪০টি এবং সাহাপুর ইউনিয়নের জন্য ২ হাজার ৭০০টি কার্ড নির্ধারিত ছিল। কিন্তু চেয়ারম্যান, মেম্বার এবং রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে বরাদ্দ নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেওয়ায় সেই চাল বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


বর্তমানে এই দুই ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দকৃত চাল উপজেলা পরিষদের গুদামে সংরক্ষিত রয়েছে। ঈদের ছুটি এবং ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এবার ঈদুল ফিতরের আগেই এসব চাল বিতরণের সম্ভাবনা নেই। ভুক্তভোগী অসহায় মানুষগুলো কয়েকদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদে ঘুরে ঘুরেও কোনো সুরাহা পাননি। এতে করে ঈদের আগে তাদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

দুই ইউনিয়নের একাধিক মেম্বাররা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও ভিজিএফ চালের কার্ড চেয়ারম্যান, মেম্বার এবং রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে বণ্টনের কথা ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় সরকারি দল বিএনপির দুই অংশ এবং সংসদ সদস্য হওয়ার সুবাদে জামায়াতের জন্যও কিছু কার্ড বরাদ্দ রাখা হয়। তবে বিএনপির মূল অংশ এতে আপত্তি জানায়। তাদের দাবি, দলের একটি অংশ বিদ্রোহী ও বহিষ্কৃত হওয়ায় তারা কোনো বরাদ্দ পেতে পারে না। একই সঙ্গে জামায়াত বিরোধীদল হওয়ায় তারাও এই কার্ডের দাবিদার নয়। ফলে পুরো কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়া তাদের নিয়ন্ত্রণেই থাকতে হবে— এমন দাবি থেকেই বিরোধের সূত্রপাত। এনিয়ে সমাধান না হওয়ায় কার্ড বিতরণ বন্ধ রয়েছে।

সাহাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এমলাক হোসেন বাবু বিশ্বাস বলেন, দলীয় লোকজনদের ভাগবাঁটোয়ারার জন্য বন্ধ আছে। দলীয় লোকজন এসে সবই চায়, তারা চায় তারাই সব দিবে। এদিকে মেম্বাররা, জামায়াতরাও ছাড়ে না। আবার বিএনপির কয়েকটা গ্রুপ, তারাও দাবি করে। এসব সমস্যার কারণে চাল বিতরণ বন্ধ আছে।

আরও পড়ুন

ছিন্নমূল মানুষদের নিয়ে যিনি ভাবেন, তিনি হলেন তারেক রহমান

একই ধরনের দাবি সাঁড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামের। তিনি বলেন, বিএনপির দলীয় কোন্দলের কারণে বন্ধ আছে। একপক্ষ বলে আমাদের দিতে হবে, আরেকপক্ষ বলে আমাদের না দিলে চার বিতরণ করতে দেব না। ফলে পরিষদ এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে এবং সংঘাত হতে পারে এই জন্য আমরা চাল বিতরণ বন্ধ করে রেখেছি।

চাল বিতরণে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও পাবনা-৪ আসনের ধানের শীষের পরাজিত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী মূল অংশের বিরুদ্ধে। তবে বিএনপির ওই অংশের নেতৃত্বে থাকা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদার বলেন, এটা হাবিবুর রহমান হাবিব সাহেব এবং বিএনপির কোনো বিষয় নয়, এটা উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং মেম্বারদের বিষয়। ওরা আমাদের ওপর দোষ দিয়ে উনারা ভালো থাকতে চাচ্ছে।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদীর ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই চাল বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে। তাদের মতে, পরিস্থিতি অস্থির হয়ে ওঠায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা ছিল। বিষয়টি জেলা প্রশাসক এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

প্রতিনিধি/এসএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর