রংপুর জেলায় হঠাৎ করে গরু চুরির ঘটনা বেড়েছে। গত ২ দিনে রংপুর নগরীর সাতমাথা মাহিগঞ্জ এলাকায় খামারির গোয়াল ঘর থেকে ৫টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন ভুক্তভোগী খামারি। চুরির ঘটনায় আতঙ্ক বেড়েছে খামারিদের মাঝে।
খামারি সূত্রে জানা যায়, নগরীর সাতমাথা পূর্ব খাসবাগ এলাকায় ১৩ মার্চ দিবাগত রাত ৩টার দিকে তহিদুল ইসলাম সুজনের গোয়াল ঘরের ৫টি গরু থেকে ৩টি গরু চুরি করে। গোয়াল ঘরের তালা কেটে ট্রাকে করে গরু নিয়ে গেছে চোর। যার বর্তমানে বাজার মূল্য ৫-৬ লাখ টাকা। চুরির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত খামারি অনেকটাই ভেঙে পড়েছেন।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত খামারি তহিদুল ইসলাম সুজন বলেন, শনিবার রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে লোকজন গোয়াল ঘরে তালা দিয়ে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। গরুর ডাকে ঘুম ভাঙে। বাইরে বের হয়ে দেখি গরু দুটি। পরে গোয়াল ঘরে দেখি ৩টি গরু নাই। গোয়াল ঘর থেকে ৫টি গরু বের করেছিল। এরমধ্যে ৩টি ট্রাকে তোলে তারা। গরু ছোটাছুটি ও ডাকায় তড়িঘড়ি করে তারা ওই ৩টা গরু নিয়ে যায়। ট্রাকের আওয়াজ শুনে আশপাশে লোকজন দেখতে পান ট্রাকে করে গরু নিয়ে যাচ্ছে। ট্রাকে কালো কাপড় দিয়ে মুখ ঢাকা দেশীয় অস্ত্রসহ ১০ থেকে ১২ জন ছিল।
অন্যদিকে রংপুর নগরীর মাহিগঞ্জের ফতেহপুর এলাকায় ৮ মার্চ সাইফুল ইসলাম সাজুর ২টি গরুর ঘটনা ঘটে। সাজুর খামার থেকেও ট্রাকে করে গরু নিয়ে গেছে চোর।
প্রত্যেকটি গরু ২-৩ লাখ টাকা দাম হবে বলে দাবি করছেন ক্ষতিগ্রস্ত খামারি।
রংপুর জেলা ডেইরি ফার্মাস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার লতিফুর রহমান মিলন ও সাধারণ সম্পাদক এস এম আসিফুল ইসলাম জানান, গরু চুরি না ডাকাতি বিষয়টি নিয়ে আমরা খামারিরা চরম আতঙ্কে রয়েছি। এ বিষয়ে আজকে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। যেকোনো উপায়ে গরু চুরি বা ডাকাতি বন্ধ করতে হবে। আমরা এই চক্রের জড়িতদের শাস্তির পাশাপাশি চুরি যাওয়া গরু উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান জানান, গরুর চুরির বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি। আপনারা জানেন, গুরুত্বপূর্ণ অনেক স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব অপরাধীদের শনাক্ত করা হবে।
প্রতিনিধি/এসএস




