ঢাকার দোহার উপজেলার বাহ্রা বাগেরকাচা এলাকায় মলি আক্তার (২৮) নামে এক নারীর ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার ভোরে বাড়ির অদূরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। মলি গত দেড় মাসে আগে মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েত থেকে ছুটিতে দেশে আসে। সে বাহ্রা বাগেরকাচা এলাকার বাদশা বাবুর্চির মেয়ে বলে জানা যায়। মলি কুয়েতে বাসা বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মলি আক্তারের সাথে ৭ বছর আগে নোয়াখালীর ঈসমাইল নামে এক ছেলে সাথে বিয়ে হয়। ওই ঘরে তাদের ৫ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। এক বছর আগে ঈসমাইলের সঙ্গে মলির বিবাহবিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের ৩ মাস পর ঈসমাইল মলির কাছে টাকা পাবে বলে এলাকায় বাবুল নামের এক ব্যক্তির কাছে ঈসমাইল পাওয়া টাকার জন্য সালিশ ডাকে। এ নিয়ে মোবাইল ফোনে তর্কবিতর্ক হতো বলে জানায় পরিবার।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১৪ মার্চ) ভোরে পরিবারের সবাই সেহরি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে ঘর থেকে বের হয় মলি। কিছুক্ষণ পর তার চিৎকারের শব্দ শুনে পরিবারের লোকজন বেরিয়ে দেখে বাড়ির সীমানায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে মলি। তাকে উদ্ধার করে দোহার উপজেলা হাসাপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। তবে কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা নিশ্চিত করতে পারেনি পরিবার। মলির পেটে, হাতে ও গলার ছুরির আঘাত রয়েছে বলে জানায় চিকিৎসক।
মলির মা রেহেনা আক্তার জানায়, এক বছর আগে মলির সঙ্গে ঈসমাইলের বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার ৩ মাস পর ওই ছেলে আমার মেয়ের কাছ টাকা পাবে বলে সালিশি বসায়। সালিশ মীমাংসার পরও টাকার জন্য চাপ দিত। কিন্তু কারা আমার মেয়েকে হত্যা করল তা নিশ্চিত নই।
লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুবকর সিদ্দিক জানায়, সুরতহাল রিপোর্টের পর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে এবং মলির মোবাইল ফোন জব্দ করেছি। তদন্তের পর আসামিকে শনাক্ত করতে পারব।
প্রতিনিধি/এসএস

