গাইবান্ধার বিভিন্ন স্থানে আকস্মিক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গত দুইদিনের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে আলুখেত। ভরা মৌসুমে ক্ষতির শঙ্কায় ভুগছেন কৃষকরা। এ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ও শুক্রবার (১৩ মার্চ) ভোর বেলায় গাইবান্ধার বেশ কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাত হয়। এর প্রভাবে বিশেষ করে সাদুল্লাপুর ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার আলু চাষিরা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
বিজ্ঞাপন
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শাখাহার ইউনিয়ন, রাজাহার ইউনিয়ন ও সাদুল্লাপুরের ধাপেরহাটসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ আলুর জমিতে পানি জমে যায়। এতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

স্থানীয় কৃষকরা জানায়, গত মৌসুমে আলু আবাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার বছর অধিক পরিমাণ জমিতে আবাদ করা হয়। ইতোমধ্যে ভালো ফলনের সম্ভাবনায় লাভের আশা ছিলো অনেকটা। অনেকেই জমি থেকে আলু তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কেউ কেউ তোলা শুরুও করছিলেন। এরই মধ্যে গত দুইদিনের বৃষ্টিতে খেতে পানি জমে যাওয়ায় সেই স্বপ্ন এখন শঙ্কার ছায়া নেমে এসেছে।
কৃষকদের আশঙ্কা, জমিতে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে আলু পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন তারা। অনেক কৃষকই ঋণ ও ধারদেনা করে আলু চাষ করেছেন। ফলে ফসল নষ্ট হলে তাদের জীবন-জীবিকা মারাত্মক সংকটে পড়বে।
বিজ্ঞাপন
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত জমির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়ে যাবে। তাই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
কৃষক আজাহার, নজমুল ও তালেব মিয়াসহ আরও অনেক বলেন, এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দ্রুত জমি থেকে পানি সরিয়ে ফসল রক্ষা করা। অন্যথায় ভালো ফলনের আশায় করা তাদের দীর্ঘ দিনের পরিশ্রম ও বিনিয়োগ মুহূর্তেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এ জন্য কৃষি বিভাগের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন তারা।

এ বিষে গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক (ডিডি) কৃষিবিদ আতিকুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় সাড়ে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। সম্প্রতি বৃষ্টির ঘটনায় আলুখেতে জমে থাকা পানি নালা করে সরিয়ে ফেললে কোনো ধরনের ক্ষতি হবে না। এ নিয়ে কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।
প্রতিনিধি/এসএস

