শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

কাগজে কলমে খাল খনন, বাস্তবে ময়লার ভাগাড়

আরিফুর রহমান, ঝালকাঠি
প্রকাশিত: ১৩ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম

শেয়ার করুন:

কাগজে কলমে খাল খনন, বাস্তবে ময়লার ভাগাড়

ঝালকাঠি পৌরসভার সাতটি খাল খননের জন্য প্রায় দেড় কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হলেও, বাস্তবে অধিকাংশ খাল আগের মতোই ময়লা আবর্জনায় ভরা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এতে করে ঠিকাদার ও পৌর কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে প্রকল্পের অর্থ লোপাটের অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় ঝালকাঠি পৌর শহরের সাতটি খাল ময়লা-আবর্জনায় ভরে গিয়ে কার্যত ভাগাড়ে পরিণত হয়েছিল। এতে করে আশপাশের এলাকাবাসী দুর্গন্ধ, রোগজীবাণু ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে পড়েন। এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে পৌরসভা নিজস্ব অর্থায়নে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট সাতটি খাল খননের কাজ শুরু করে।


বিজ্ঞাপন


প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৩৩ লাখ ৩৭ হাজার ৭৭৭ টাকা। ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আজমীর বিল্ডার্স কাজটি পায়। দরপত্র অনুযায়ী খনন কাজ শেষ করার নির্ধারিত সময় ছিল ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ খালে খনন কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

c710889a-7d29-4585-9ef5-e12752b95748

স্থানীয়দের দাবি, শহরের কয়েকটি খালে নামমাত্র খনন দেখিয়ে প্রকল্পের অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে দখল ও দূষণের সমস্যা আগের মতোই রয়ে গেছে।

শহরের বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, সাতটি খালের জন্য বড় অঙ্কের বাজেট করা হলেও মাত্র তিনটি খালে সামান্য খনন করা হয়েছে। বাকি খালগুলোতে কোনো কাজই হয়নি।


বিজ্ঞাপন


d921780a-58eb-4bb3-baac-6309ed1d91f7

ফকিরবাড়ি এলাকার মনসুর আলী অভিযোগ করেন, অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশেই এই খাল খননের নাটক করা হয়েছে। সব খাল আগের মতোই ময়লার ভাগাড় হয়ে আছে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুন

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

কবিরাজবাড়ী এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আল আমিন বাকলাই বলেন, খালের উৎস মুখ পরিষ্কার না করায় পানি ও ময়লা অপসারণের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে বর্ষার আগেই কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বর্ষা শুরু হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার ও পৌর কর্তৃপক্ষ একে অপরকে দায়ী করছেন।

f4beebec-e1ff-412f-9022-472e0f9aabd9

ঠিকাদার এবিএম সারোয়ার হোসেন বলেন, গত প্রায় ৫০ বছরেও খালগুলো খনন হয়নি। দখল ও দূষণের কারণে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করতে হয়েছে। এছাড়া পৌরসভা এখনো কাজের অর্ধেক বিল পরিশোধ করেনি বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে ঝালকাঠি পৌরসভার প্রকৌশলী টি এম রেজাউল হক রিজভী জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই অসমাপ্ত খনন কাজ শেষ করে পৌরবাসীর দুর্ভোগ কমানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/এসএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর