বাগেরহাটে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত সরদার ওসমান গনির হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সামনে স্থানীয় কয়েকশ নারী-পুরুষ এই মানববন্ধনে অংশ নেন।
বিজ্ঞাপন
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নিহত সরদার ওসমান গনির স্ত্রী সোহানা আক্তার, বোন সাইয়েদা বেগম, চাচা আব্দুস সালামসহ স্বজন ও স্থানীয়রা।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, মামলার অন্যতম আসামি বেলায়েত হোসেন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হাওলাদার, বাগেরহাট সদর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আবুল হাসান শেখসহ অন্য আসামিরা এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং বাদী ও তার স্বজনদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। দ্রুত আসামিদের গ্রেফতারের দাবি জানান তারা।
নিহতের স্ত্রী সোহানা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামী একজন নির্দোষ মানুষ ছিল। তার নামে কোনো খারাপ রেকর্ড নেই। সে ঢাকায় চাকরি করত। নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য বাড়িতে এসেছিল। ভোট দিতে এসে সে আমাদের ছেড়ে চলে যাবে—এটা কখনো ভাবিনি। আমার তিন বছরের একটি ছোট সন্তান আছে। তাকে নিয়ে এখন কোথায় যাব? আমি আমার স্বামীর হত্যার বিচার চাই।
বিজ্ঞাপন
নিহতের বোন জামিলা বলেন, আমার ভাই ছিল নিরীহ মানুষ। সে কোনো রাজনীতি বা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিল না। অথচ তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এখনো আমরা বিচার পাচ্ছি না। বরং মামলা তুলে নিতে আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
এ সময় নিহতের বৃদ্ধ বাবাও ছেলের হত্যার বিচার দাবি করে বলেন, আমি আমার শেষ সন্তানকে হারিয়েছি। আমার নাতি তার বাবাকে হারিয়েছে। মৃত্যুর আগে কি আমি আমার ছেলের হত্যার বিচার দেখে যেতে পারব?
উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি কচুয়া উপজেলার ছিটাবাড়ি এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে সরদার ওসমান গনিসহ অন্তত ১০ জনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ ফেব্রুয়ারি মারা যান সরদার ওসমান গনি।
এ ঘটনায় ওইদিনই নিহতের ভাই সরদার এনামুল বাদী হয়ে কচুয়া মডেল থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— শহিদুল হাওলাদার (সাধারণ সম্পাদক, বেলায়েত হোসেন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদল), আবুল হাসান শেখ (ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক, বাগেরহাট সদর উপজেলা যুবদল), হাফিজ খান (সাধারণ সম্পাদক, গোটাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি), এনামুল শেখ (সভাপতি, ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি), আসাদ খান (সাধারণ সম্পাদক, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি), আলী ফকির (সাংগঠনিক সম্পাদক, ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি) ও অজিয়ার তরফদার (সিনিয়র সহ-সভাপতি, ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি)।
বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুম খান বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
প্রতিনিধি/এসএস

