নিভৃত গ্রামাঞ্চলের গৃহবধূ সুলতানা তানজিমা ফেরদৌসি। ইতোপূর্বে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আইটি অফিসার পদে চাকরি করতেন। এরই মধ্যে সেই চাকরি ছেড়ে কৃষিকাজে মনোনিবেশ হন। বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি ইউটিউব দেখে এ বছর আবাদ করেছেন বিটরুট নামের এক ভিনদেশি সবজি। এ খেত থেকে পাচ্ছেন আশানুরূপ ফলন ও ভালো দাম। ইতোমধ্যে সাড়া ফেলছে অন্যান্য কৃষকের মাঝে। ভোক্তারও ব্যাপক চাহিদা থাকায় খুব খুশি এই নারী উদ্যোক্তা ফেরদৌসি।
সম্প্রতি গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলা ইউনিয়নের পশ্চিম কুপতলা এলাকার কৃষিমাঠে দেখা গেছে- ফেরদৌসির বিটরুট খেতের অপরূপ দৃশ্য। সবুজ পাতার উঁকিতে মাটির নিচে লুকিয়ে আছে গোলাকৃতির রক্তিম এই সবজি। থাইল্যান্ডের বিটরুট এখন নিজ এলাকায় আবাদ হওয়ার খবরে উৎসুক জনতা একনজর দেখতে ভিড়ও করছেন এ খেতে। আর কেউ কেউ মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করছেন ছবি ও ভিডিও। আবার অনেকে কিনেও নিচ্ছেন পুষ্টিগুণের এই সবজি।
বিজ্ঞাপন

খোঁজ নিয়ে জানা জায়, সুলতানা তানজিমা ফেরদৌসী পশ্চিম কুপতলা গ্রামের রুহুল আমিনের স্ত্রী। ২০০১ সালে নিডাসা থেকে কম্পিউটার সাইন্সে পোস্ট গ্রাজুয়েট কমপ্লিট করেন। ২০০২ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পরে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনলোজিতে আইটি অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। এরপর ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে সেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে বাড়িতে কৃষিকাজে মনোনিবেশ করেন। কারণ একটাই- তার বাবা ছিলেন একজন কৃষি কর্মকর্তা। কৃষিতে সেই অনুপ্রাণিত হয়ে কৃষিকাজে মনোনিবেশ করেছেন সুলতানা তানজিমা ফেরদৌসি।
এরই ধারাবাহিকতায় ইউটিউব দেখে বিটরুট চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে সদর উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শক্রমে এ বছর শুরু করেন বিটরুট চাষ। বাড়ির পতিত ১৫ শতক জমিতে বাণিজ্যিকভাবে বিদেশি সবজি বিটরুট চাষে অন্যান্য কৃষকের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
পুষ্টিবিদরা বলছেন, বিটরুট খেলে মানবদেহে দ্রুত হজমে সাহায্য করে। যা রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে। এছাড়া বিভিন্ন প্রকারের পুষ্টিগুণ রয়েছে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস ও ক্যানসার রোগের ঝুঁকি কমায় এই বিটরুট।
স্থানীয় কৃষক খলিল মিয়া বলেন, বিটরুট চাষ হয় থাইল্যান্ডে। কিন্তু সেই সবজি এখন আবাদ করছেন ফেরদৌসি। ফলনও হয়েছে বাম্পার। দেখে অনেকটা ভালো লেগেছে। সামনের বছরে আমিও এই সবজির আবাদ করব।

মেহেদী হাসান নামের এক ভোক্তা জানান, ফেরদৌসির বিটরুট খেতে খুচরা ক্রেতাদের চাহিদা বেড়েছে। আমিসহ অনেকেই এই সবজি কিনছেন জুস, সালাদ বা তরকারি খাওয়ার জন্য।
উদ্যোক্তা সুলতানা তানজিমা ফেরদৌসি বলেন, অনলাইন দেখে বিটরুট চাষাবাদ শুরু করি। কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ভালো ফলনও পেয়েছি। অন্যান্য ফসলের চেয়ে বিটরুট চাষে খরচ কম এবং ফলন ও লাভ বেশি। সুপারফুড খ্যাত এই সবজিটি ঘিরে মানুষের ব্যাপক সাড়া মিলছে।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুল আলম জানান, একজন নারী অগ্রগামী কৃষানি ফেরদৌসি বরাবরই আমাদের পরামর্শে উচ্চ মূল্যের শাক সবজি এবং নতুন ফসল চাষাবাদ করে থাকেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবার তিনি বিটরুট চাষ করেছেন। বাজারের এটির বেশ চাহিদা ও দামও আছে। পাশাপাশি বিটরুট চাষাবাদে আমরা তাকে সব সময়ই পরামর্শ প্রদান করে আসছি।
প্রতিনিধি/এসএস

