শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

নিজ দলের নেতাকর্মীদের মারধরে বিএনপি কর্মী নিহত

জেলা প্রতিনিধি, রাজশাহী
প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:০০ এএম

শেয়ার করুন:

নিজ দলের নেতাকর্মীদের মারধরে বিএনপি কর্মী নিহত

রাজশাহীর চারঘাটে নিজ দলের নেতাকর্মীদের মারধরে বিএনপির এক কর্মী নিহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।


বিজ্ঞাপন


চারঘাট মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতের নাম এরশাদ আলী (৬৫)। তিনি উপজেলার সিপাইপাড়া এলাকার মৃত সৈয়দ আলীর ছেলে। ইউসুফপুর ইউনিয়ন বিএনপির সক্রিয় সদস্য ও স্থানীয় এমপি আবু সাইদ চাঁদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন এরশাদ।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার ইউসুফপুর ইউনিয়নে মাহফিলের প্রধান অতিথি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এতে এরশাদ আলী নামে বিএনপি কর্মী নিহত হন। রাত ৯টার দিকে তারাবির নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর স্থানীয় একটি মসজিদে আসন্ন জালসা ও মাহফিল আয়োজন নিয়ে আলোচনায় বসেন এলাকাবাসী। আলোচনা চলাকালীন মাহফিলের প্রধান অতিথি করা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। একপক্ষ জেলা বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলকে প্রধান অতিথি করার প্রস্তাব দেয়। অন্যদিকে, এরশাদ আলীসহ অপর পক্ষ বর্তমান সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদকে প্রধান অতিথি করার দাবি জানান। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই আলোচনা পণ্ড হয়ে যায়।


বিজ্ঞাপন


​প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাত ৯টার দিকে এরশাদ আলী তারাবির নামাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত সাইদুর রহমান, সুমন আলী, সাব্বির, আশাদুল ও জোয়াদসহ বেশ কয়েকজন তার পথরোধ করে। হামলাকারীরা পেয়ারা গাছের ডাল ও লাঠি দিয়ে এরশাদ আলীকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চারঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে নিহতের মরদেহ তার নিজ বাড়িতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে বলে জানা গেছে।

চারঘাট মডেল থানার এসআই সিরাজুল ইসলাম বলেন, মাহফিলে প্রধান অতিথি সিলেক্ট নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। নিয়ম অনুযায়ী এমপি অতিথি হবে এমন দাবি করেছিলো এরশাদ আলী। ওপর পক্ষ আনোয়ার হোসেন উজ্জলকে অতিথি করতে চেয়েছিলো। রাতে তারাবির নামাজ শেষ করে বাড়িতে যাওয়ার সময় কিল ঘুষি ও ডালপালা দিয়ে পিটিয়ে তাকে হত্যা করে।

প্রতিনিধি/টিবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর