রংপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার বিরুদ্ধে ৪ কোটি ২৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় ঠিকাদার ও ব্যাংক কর্মকর্তাসহ আরও সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রংপুর সিনিয়র স্পেশাল জেলা জজ আদালতে মামলাটি দায়ের হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর সমন্বিত জেলা দুদক কার্যালয়ের উপপরিচালক শাওন মিয়া।
মামলায় অন্য আসামিরা হলেন— ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাকিব ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রাকিব, মুক্তি প্রকৌশল সংস্থার মালিক এটিএম ফুহাদ হোসেন, রফিকুল ইসলাম দুলাল, মেঘনা ব্যাংক রংপুর শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মাহফুজুল ইসলাম, সহকারী ব্যবস্থাপক একেএম শফিকুল মমতাজ, সিনিয়র অফিসার আতিকুর রহমান এবং সাবেক ফার্স্ট অ্যাসিটেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মঞ্জুর হোসেন পাটওয়ারী। আসামিরা প্রতারণামূলকভাবে মেঘনা ব্যাংকের ৪ কোটি ২৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, রংপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মেয়র হিসেবে দায়িত্বরত থেকে টেন্ডারের কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদারের অনুকূলে মেঘনা ব্যাংক বরাবর চেক ইস্যু করার নিশ্চয়তা প্রদান করেন। যা অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে নিজে লাভবান হয়ে বা অন্যকে লাভবান করার অসৎ উদ্দেশ্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে। সেই কাজের ৮ম ও ৯ম বিলের টাকা অন্য ব্যাংকের অনুকূলে চেক ইস্যুর ফলে মেঘনা ব্যাংকের ৪ কোটি ২৬ লাখ ৭৫ হাজার ৫০৩ টাকা পরিশোধ না করে আত্মসাতে সহযোগিতা করেন। মেসার্স রাকিব ব্রাদার্স কর্তৃক টেন্ডারের কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদার হয়েও প্রকল্পের কাজ না করে অপর একজনকে কার্য সম্পাদনে দায়িত্ব প্রদানের জন্য পাওয়ার অব এটর্নি সম্পাদন করেন। পরবর্তীতে ৮ম ও ৯ম বিলের টাকা অন্য ব্যাংকে গ্রহণ করে মেঘনা ব্যাংকের ৪ কোটি ২৬ লাখ ৭৫ হাজার ৫০৩ টাকা ঋণ পরিশোধ করেননি।
মামলার বাদী ও রংপুর সমন্বিত দুদক কার্যালয়ের উপপরিচালক শাওন মিয়া বলেন, অনুসন্ধানে মেঘনা ব্যাংকের ৪ কোটি ২৬ লাখ ৭৫ হাজার ৫০৩ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ায় এ মামলা দায়ের হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিনিধি/টিবি

