নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায়, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর জ্যেষ্ঠ ছেলে।
বিজ্ঞাপন
দুদকের মামলার নথিতে বলা হয়েছে, দুদক আইনের ২৬ (১) ধারায় সাদিক আবদুল্লাহকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তিনি সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় একই আইনের ২৬ (২) ধারায় ‘শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটিত’ হয়েছে। ৪ নভেম্বর নোটিশ জারির পর নির্ধারিত ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি সাদিক আবদুল্লাহ। এ কারণে তার বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬ (২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দুদক কর্মকর্তারা বলেন, কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে আসা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে বরিশালের সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করা হয়। অনুসন্ধানকালে প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ভোগ-দখলে রাখার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এর ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য সাদিক আবদুল্লাহর নামে নোটিশ জারির সিদ্ধান্ত হয়। নোটিশ পৌঁছে দিতে ২৬ অক্টোবর দুদকের একজন কনস্টেবল ঢাকার কলাবাগান এলাকায় তার ঠিকানায় গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে ৪ নভেম্বর বরিশাল নগরীর ঠিকানায় গিয়েও তাকে না পাওয়ায়, একই দিন আগৈলঝাড়া উপজেলার সেরাল গ্রামের ঠিকানায় সম্পদ বিবরণী ফরমের মূল কপি বাড়ির দরজায় টাঙিয়ে নোটিশ জারি করা হয়।
প্রসঙ্গত : আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর জ্যেষ্ঠ ছেলে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রথমে কৌশলে বরিশাল থেকে ভারতে পালিয়ে যান সাদিক আবদুল্লাহ।
প্রতিনিধি/ এজে

