শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ঢাকা

নির্যাতনের অভিযোগে গৃহবধূর আত্মহত্যার চেষ্টা

জেলা প্রতিনিধি, ঝালকাঠি
প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:১৪ পিএম

শেয়ার করুন:

নির্যাতনের অভিযোগে গৃহবধূর আত্মহত্যার চেষ্টা

ঝালকাঠিতে স্বামীর বিরুদ্ধে বিকৃত যৌনাচার, শারীরিক নির্যাতন ও দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ তুলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক গৃহবধূ। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তিনি বর্তমানে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, তার শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে এবং শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

দগ্ধ গৃহবধূ সুখী আক্তার (২৪) ঝালকাঠি সদর উপজেলার নৈয়ারি গ্রামের বাসিন্দা। কয়েক বছর আগে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. হাসানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের চার বছর বয়সি একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সুখী নিজের শরীরে আগুন দেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে প্রথমে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এ নেওয়া হয়। কয়েকদিন চিকিৎসা চললেও আর্থিক সংকটের কারণে স্বজনরা সেখানে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারেননি। পরে বরিশালে স্থানান্তর করা হলেও প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ব্যয়ভার বহন করতে না পেরে একপর্যায়ে তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আরও পড়ুন

মোরেলগঞ্জে হেফজখানার ছাত্রকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠালেন শিক্ষক

হাসপাতালের শয্যা থেকে সুখী অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই তাকে অপমানজনক ও অস্বাভাবিক কাজে বাধ্য করা হতো। রাজি না হলে শারীরিক নির্যাতন করা হতো এবং বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো বলে তার দাবি। সম্প্রতি স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের খবর জানার পর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। অপমান ও সহিংসতা সহ্য করতে না পেরে চরম সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান।

সুখীর বোন মিতু আক্তার বলেন, আপা প্রায়ই ফোনে কাঁদত। বলত তাকে জোর করে অস্বাভাবিক কাজ করানো হয়। আমরা বিষয়টিকে সাধারণ দাম্পত্য কলহ ভেবেছিলাম। এখন বুঝছি বিষয়টি কতটা গুরুতর ছিল।

চাচি রেবা বেগম জানান, হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় মুখ ছাড়া শরীরের প্রায় সব অংশ পুড়ে গেছে। চিকিৎসকরা অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন। মা শামসুন্নাহার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মেয়ে বাঁচতে চায়। কিন্তু টাকার অভাবে চিকিৎসা চালাতে পারছি না। প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।

অভিযোগের বিষয়ে স্বামী মো. হাসান বলেন, পারিবারিক বিরোধ থাকলেও নির্যাতন বা দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ সঠিক নয়।

ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর