আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁও জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে ভোট উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। জেলার ৩টি পৌরসভা ও ৫৪টি ইউনিয়নে মোট ৪১৭টি ভোটকেন্দ্রের ২ হাজার ৩৩৪টি ভোটকক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এসব ভোটকক্ষের মধ্যে ২ হাজার ১১৬টি স্থায়ী এবং ২১৮টি অস্থায়ী। ঠাকুরগাঁও জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১২ লাখ ১ হাজার ৪৭৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ লাখ ৬ হাজার ৯০৭ জন, নারী ভোটার ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৭ জন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোটার বেড়েছে ৫৮ হাজার ৫৫০ জন। জেলার তিনটি আসনে মোট প্রার্থী রয়েছেন ২০ জন।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীদের লড়াই
সংসদীয় আসন-৩ ঠাকুরগাঁও-১ আসনে রয়েছে ২২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা। এ আসনে ভোট গ্রহণ হবে ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের ৯৯১টি ভোটকক্ষে। এর মধ্যে স্থায়ী ভোটকক্ষ ৯০৬টি এবং অস্থায়ী ৮৫টি। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৪ হাজার ৮৩৮ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৫৩ হাজার ৬৩৮ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫১ হাজার ১৯৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩ জন প্রার্থী। তারা হলেন—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. দেলাওয়ার হোসেন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ডা. হাফেজ মো. খাদেমুল ইসলাম।

ঠাকুরগাঁও-২ আসনে ৭ প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা
সংসদীয় আসন-৪ ঠাকুরগাঁও-২ আসনটি গঠিত হয়েছে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন, হরিপুর উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন এবং রাণীশংকৈল উপজেলার ২টি ইউনিয়ন নিয়ে। এ আসনে ভোট গ্রহণ হবে ১০৪টি ভোটকেন্দ্রের ৬৩৯টি ভোটকক্ষে। এর মধ্যে স্থায়ী ভোটকক্ষ ৫৬৬টি এবং অস্থায়ী ৭৩টি। এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৬ হাজার ১৭৭ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৬৩ হাজার ১০৩ জন, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ জন।
ঠাকুরগাঁও-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭ জন প্রার্থী। তারা হলেন—বিএনপির ড্যাবের সাবেক মহাসচিব ডা. আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মো. আব্দুল হাকিম, জাতীয় পার্টির নূরুন নাহার বেগম, গণঅধিকার পরিষদের ফারুক আহম্মদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রেজাউল করিম, এবি পার্টির মো. নাহিদ রানা এবং বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মো. সাহাবউদ্দিন আহমেদ।
ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে ১০ প্রার্থী, একজন নারী স্বতন্ত্র
সংসদীয় আসন-৫ ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে রয়েছে মোট ১৬টি ইউনিয়ন। এর মধ্যে পীরগঞ্জ উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন এবং রাণীশংকৈল উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬টি ইউনিয়ন রয়েছে। পাশাপাশি পীরগঞ্জ ও রাণীশংকৈল—এই দুটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসন। এ আসনে ভোট গ্রহণ হবে ১২৮টি ভোটকেন্দ্রের ৭০৪টি ভোটকক্ষে। এর মধ্যে স্থায়ী ভোটকক্ষ ৬৪৪টি এবং অস্থায়ী ৬০টি। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৪৫৮ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮১৮ জন, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮২ হাজার ৬৩৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২ জন।
এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১০ জন প্রার্থী। তারা হলেন—বিএনপির মো. জাহিদুর রহমান, জাতীয় পার্টির মো. হাফিজ উদ্দীন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. মিজানুর রহমান, গণঅধিকার পরিষদের মামুনুর রশিদ মামুন, সিপিবির প্রভাত সমীর শাহজাহান আলম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আল আমিন, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির কমলা কান্ত রায়, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এস. এম. খলিলুর রহমান সরকার, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. আবুল কালাম আজাদ এবং একমাত্র নারী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোছা. আশা মনি।

কঠোর নিরাপত্তায় ভোট গ্রহণ
শান্তিপূর্ণভাবে ভোট সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন নিয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে মাঠে থাকবেন ৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ২২ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকবেন ১ হাজার ২৫০ জন পুলিশ সদস্য। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর ১১ প্লাটুন, বিজিবির ৩২ প্লাটুন, র্যাবের ৩ প্লাটুন এবং ৬ হাজারের বেশি আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সম্মিলিত বাহিনীর ১৩ জন সদস্য এবং অতিরিক্ত ২ থেকে ৩ জন পুলিশ সদস্য থাকবেন। নিরাপত্তা জোরদারে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে থাকবে বডি অন ক্যামেরা।
প্রশাসনের প্রত্যাশা
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ইশরাত ফারজানা বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন বাস্তবায়নে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক ও তৎপর থাকবে। সবার অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রতিনিধি/এসএস




