রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে ভোটের যাবতীয় সব প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেছে নির্বাচন কমিশন। রাজবাড়ী জেলার ২টি সংসদীয় আসনে মোট ১৩জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
রাজবাড়ী-১ আসনে (সদর ও গোয়ালন্দ উপজেলা) ৪ জন এবং রাজবাড়ী-২ আসনে (পাংশা-বালিয়াকান্দি-কালুখালী উপজেলায়) ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছে। নির্বাচনে রাজবাড়ী জেলার ২টি আসনে মোট ৩৫৪টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই ৩৫৪টি কেন্দ্রের মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ২৯টি, গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ৯০টি এবং সাধারণ কেন্দ্র ২৩৫টি বলে চিহ্নিত করেছে জেলা পুলিশ।
এসব অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি নজরদারি রাখবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে ৩৫৪টি কেন্দ্রেই থাকবে সিসি ক্যামেরার আওতায়। এই সিসি ক্যামেরাগুলো স্ব-স্ব সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে মনিটরিং করা হবে।
রাজবাড়ী জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ী জেলার দুইটি সংসদীয় আসনে মোট ৩৫৪টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। রাজবাড়ী-১ আসনের ১৫৬টি আসনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ৩৬টি ও সাধারণ কেন্দ্রের সংখ্যা ১২০টি এবং রাজবাড়ী-২ আসনের ১৯৮টি কেন্দ্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ৮৩টি ও সাধারণ কেন্দ্রের সংখ্যা ১১৫টি। রাজবাড়ী সদর উপজেলার ১১৫টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, সাধারণ কেন্দ্রের সংখ্যা ৮৫টি, গোয়ালন্দ উপজেলার ৪১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ ৩৫টি, পাংশা উপজেলার ৭৭ কেন্দ্রের মধ্যে ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ, সাধারণ কেন্দ্র ৬০টি, বালিয়াকান্দি উপজেলার ৭০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬১টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ, সাধারণ কেন্দ্র ৯টি ও কালুখালী উপজেলার ৫১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি ও সাধারণ কেন্দ্র ৪৬টি গুরুত্বপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) তাপস কুমার পাল বলেন, রাজবাড়ীর ২টি সংসদীয় আসনের ৩৫৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১৯টি কেন্দ্র অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে জেলা পুলিশ থেকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকি কেন্দ্রগুলো সাধারণ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ১১৯টি কেন্দ্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি নজরদারি থাকবে। এসব কেন্দ্রে পুলিশের বডি অন ক্যামেরা থাকবে। যেসব ক্যামেরা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে সরাসরি মনিটরিং করা হবে। তিনি আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা পুলিশ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। মোট ১০৪২ জন পুলিশ সদস্য নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবে। প্রতি কেন্দ্রে ২ জন পুলিশ সদস্য থাকবে। পাশাপাশি ১৩ জন আনসার সদস্য থাকবে। এছাড়াও পুলিশ সদস্যরা মোবাইল পেট্রোলিং, স্ট্রাইকিং ফোর্স, স্ট্যান্ডবাই হিসেবে কাজ করবে। এর বাইরেও সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা নির্বাচনি মাঠে কাজ করবে।
রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করবে। পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, আনসারের সদস্যরা কাজ করবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদস্য ১০৪২ জন, সেনাবাহিনী ৫৮৯ জন, র্যাব ৩০ জন, বিজিবি ১২৫ জন, ব্যাটালিয়ন আনসার ৯০ জন, সাধারণ আনসার ৪৬০২ জন নিয়োজিত থাকবে। এছাড়াও ৩৫৪ টি কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে।

আচরণবিধি প্রতিপালনে ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর সহায়তায় ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৫ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিচারিক দায়িত্ব পালন করবেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পোস্টাল ব্যালটের ২টি কেন্দ্র সহ জেলার দুইটি আসনের ৩৫৬টি কেন্দ্রের মধ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়ন বিবেচনা করে ২৪৭টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে তারা চিহ্নিত করেছে।
রাজবাড়ী সদর উপজেলায় ১১৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮২টি, গোয়ালন্দের ৪১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৮টি, পাংশার ৭৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫১টি, বালিয়াকান্দির ৭০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৪টি, কালুখালীর ৫১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জেলা আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট(ভারপ্রাপ্ত) জুয়েল রানা জানান, রাজবাড়ী জেলার ২টি আসনের মোট ৩৫৪টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এই ভোট কেন্দ্রগুলোতে ৪ হাজার ৬০২ জন আনসার সদস্য নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১৩ জন করে সদস্য থাকবে। এই ১৩ জন সদস্যদের মধ্যে ৩ জন অস্ত্র নিয়ে ডিউটি করবে এবং বাকিরা লাঠি নিয়ে দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া একজন সেকশন কমান্ডার, একজন সহকারী সেকশন কমান্ডার হিসেবে মোতায়েন থাকবে। প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তার জন্য ১ জন অস্ত্রধারী আনসার সদস্য থাকবে। তিনি প্রিজাইডিং অফিসারের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা প্রদান করবে। এছাড়াও প্রত্যেকটি উপজেলায় স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে।
জেলা নির্বাচন অফিসার শেখ মুহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রাজবাড়ীর ট্রেজারি থেকে ব্যালট পেপার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতরে পাঠানো হয়েছে। ভোটের আগের দিন সব কেন্দ্রে ব্যালক বাক্স ও ব্যালট পেপার পৌঁছে যাবে।
এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সব প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয়েছে। ইতোমধ্যেই পোস্টাল ব্যালটে ভোটগ্রহণ শেষ পর্যায়ে। ভোট কেন্দ্রগুলোর ছোটোখাটো সংস্কারের কাজও শেষ হয়ে গেছে। রাজবাড়ী জেলার দুইটি সংসদীয় আসনের ৩৫৪টি কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। এসব ক্যামেরাগুলো স্ব-স্ব সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে মনিটরিং করা হবে। এছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, আনসার সদস্যরা নিয়োজিত থাকবে। আশা করছি সবার সমন্বয়ে আমরা একটা ভালো নির্বাচন উপহার দিতে পারব।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার দুটি আসনের মোট ভোটার ৯ লাখ ৮৯ হাজার ৯০৮। এর মধ্যে রাজবাড়ী-১ আসনের ভোটার ৪ লাখ ৩০ হাজার ২১৫ জন এবং রাজবাড়ী-২ আসনের ভোটার ৫ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৩ জন। রাজবাড়ী-১ সংসদীয় আসন রাজবাড়ী সদর উপজেলা ও গোয়ালন্দ উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই দুই উপজেলায় রয়েছে ১৮টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩০ হাজার ২১৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৬ হাজার ১৪৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ১৪ হাজার ৫৮ এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার ৮ জন। এই আসনে মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৫৬টি। রাজবাড়ী সদর উপজেলায় ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১১৫টি ও গোয়ালন্দ উপজেলা ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৪১টি। মোট ভোট কক্ষের সংখ্যা ৯১২টি। এর মধ্যে স্থায়ী ৯০৪ টি ও অস্থায়ী ৮টি। রাজবাড়ী সদরে ভোট কক্ষের সংখ্যা ৬৯৫টি ও গোয়ালন্দ উপজেলা ভোট কক্ষের সংখ্যা ২১৭টি।
অপরদিকে রাজবাড়ী-২ আসন ৩টি উপজেলা, ২৪টি ইউনিয়ন এবং ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এ আসনের মধ্যে মোট ভোটার ৫ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৩। এর মধ্যে পাংশা উপজেলায় ভোটার ২ লাখ ২৫ হাজার ৯৪৩ জন, বালিয়াকান্দি উপজেলায় ১ লাখ ৯০ হাজার ৩১৯ জন এবং কালুখালী উপজেলায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ৪৩১ জন। এ আসনে মোট পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৮৫ হাজার ৬০৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৭৪ হাজার ৭৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৫ জন। এ আসনে মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৯৮টি। এর মধ্যে বালিয়াকান্দি উপজেলায় ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৭০টি, কালুখালী উপজেলায় ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৫১টি ও পাংশা উপজেলায় ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৭৭টি। এ আসনে মোট ভোট কক্ষের সংখ্যা ১২০৩ টি।
প্রতিনিধি/এসএস




